
বলিউডে পা দেওয়ার পর থেকেই অভিষেক বচ্চনকে শুনতে হয়েছে, তিনি ঠিক বাবা অমিতাভের মতো অভিনয় পারেন না। বলিউড শহেনশাহর ছায়ায় ঢাকা পড়ে, অভিষেক বার বারই সিনেমার পর্দায় অসফল। অভিষেকের এই বিষয়টি জানেন খোদ অমিতাভ বচ্চনও। আর তাই তো অভিষেক সিনেমা ফ্লপ হলে, মারাত্মক সমালোচনার মুখে পড়লে অমিতাভ, তাঁর ছেলেকে বিশেষ কয়েকটি কথা বলেন। যা কিনা অভিষেককে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।
অমিতাভ বচ্চনের কয়েক বছর আগের একটি বক্তব্য যেন এই মুহূর্তে ভাইরাল। ‘রেডিফ’-কে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে অমিতাভ জানিয়েছিলেন, সমালোচনা একজন শিল্পীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাক্ষাৎকারে অমিতাভ বলেছিলেন, “আমি সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করি। আমি মনে করি এটি অত্যন্ত জরুরি। আপনি যদি সারাদিন নিজের সম্পর্কে কেবল ভালো কথাই শোনেন, তবে আপনার উন্নতি থমকে যাবে। কেউ নিখুঁত নয়, আমাদের সবার মধ্যেই দোষত্রুটি থাকে। অনেক সময় আমরা নিজের ভুলগুলো নিজেরা ধরতে পারি না। তাই যখন কেউ সমালোচনা করেন বা কাজের মূল্যায়ন করেন, তখন বিষয়টিকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।”
সমালোচনা যে একজন শিল্পীকে আরও পরিশ্রমী হতে অনুপ্রাণিত করে, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছিলেন শাহেনশাহ। তিনি বলেছিলেন, “সমালোচনা পড়ব না বা এগুলো আবর্জনা— এমনটা আমি ভাবি না। বরং অনেক সময় আমি এগুলোকে জেদ হিসেবে ব্যবহার করি।” পুত্র অভিষেককে দেওয়া পরামর্শের কথা তুলে ধরে অমিতাভ বলেন, “আমি অভিষেককে সবসময় বলি, যদি তোমার সিনেমা সফল না হয়, তবে সেই সমালোচনাগুলোকে দেওয়ালের সামনে টাঙিয়ে রাখো। সকালে ঘুম থেকে উঠে ওগুলো দেখো এবং নিজেকে বলো যে আজ তোমাকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে এবং নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।” অমিতাভ স্বীকার করেছিলেন যে, অনেক সময় সমালোচনা অপমানজনক বা কুরুচিকর পর্যায়ে চলে যায়। কিন্তু একজন সৃষ্টিশীল মানুষের কাছে এটাই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ— সেই নেতিবাচকতাকে পাশ কাটিয়ে নিজের কাজে অবিচল থাকা।