
পর্দার সামনে তিনি ‘সুপারম্যান’, কিন্তু বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে হৃত্বিক রোশন মনে করেন অভিনেতাদের নিজস্ব দক্ষতার সীমাবদ্ধতা বোঝা উচিত। হৃতিকের মতে, অ্যাকশন দৃশ্যে পেশাদার স্টান্টম্যানদের ওপর নির্ভর না করে নিজে ঝুঁকি নেওয়া আদতে একটি ‘অহংবোধ’ বা ইগো-র বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। অভিনেতার ভাষায়, “আমি নিজের স্টান্ট নিজে করায় বিশ্বাস করি না। এটা বোকামি এবং অবিলম্বে এটি নিষিদ্ধ হওয়া উচিত।”
হৃতিক তাঁর যুক্তিতে বলেন, “এক একজন মানুষ এক একটি নির্দিষ্ট কাজে পারদর্শী। একজন অভিনেতা হিসেবে আপনি একটি ফ্যান্টাসি জগত তৈরি করছেন। আপনার মেকআপ, পোশাক, চুল বা সংলাপ—সবই সেই কাল্পনিক জগতকে বাস্তব করে তোলার জন্য ব্যবহার করা হয়। স্টান্টও ঠিক তেমনই। একজন স্টান্টম্যানের কাজই হলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই অ্যাকশন করা। এটা তাঁর বিশেষত্ব। সেখানে যদি একজন অভিনেতা নিজের ইগো নিয়ে আসেন, তবে তা হবে নিজের সংলাপ নিজে লিখতে চাওয়ার মতোই হাস্যকর।”
হৃতিক এই কথাগুলো এমনি এমনি বলছেন না, এর পেছনে রয়েছে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। হৃতিকের বাবা তথা পরিচালক রাকেশ রোশন একবার জানিয়েছিলেন, ‘কৃষ’ ছবির শুটিংয়ের সময় একটি দৃশ্যে এক বিল্ডিং থেকে অন্য বিল্ডিংয়ে লাফ দেওয়ার কথা ছিল হৃতিকের। নিরাপত্তার জন্য হারনেস বাঁধা থাকলেও মাঝ আকাশে আচমকাই সেই তার ছিঁড়ে যায়। বেশ খানিকটা উচ্চতা থেকে সরাসরি নিচে আছড়ে পড়েছিলেন অভিনেতা। ভাগ্যের জোরে সেবার বড় কোনও চোট ছাড়াই বেঁচে ফিরেছিলেন তিনি। সম্ভবত সেই ঘটনার পর থেকেই জীবনের ঝুঁকি নেওয়া নিয়ে আমূল বদলে গিয়েছে হৃতিকের দৃষ্টিভঙ্গি।
২০০০ সালে বাবার হাত ধরেই ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেছিলেন হৃতিক। এরপর ‘যোধা আকবর’, ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ কিংবা ‘সুপার ৩০’-এর মতো কালজয়ী ছবিতে নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করেছেন তিনি। অ্যাকশন হিরো হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেও, হৃতিক সবসময়ই পেশাদার স্টান্টম্যানদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার পক্ষপাতি। তাঁর মতে, অভিনয় ও স্টান্ট—দুটি আলাদা শিল্প, এবং একটির জায়গায় অন্যটির অনুপ্রবেশ ঘটানো ঠিক নয়।