দেশ ছাড়ার নোটিসকে চ্যালেঞ্জ! বড় পদক্ষেপ করতে চলেছেন ইমরান খান?

Bombay High Court : গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান খান। আর সেই বিক্ষোভেই যোগ দেওয়ার জেরে পুলিশের হাতে আটক হন তিনি।

দেশ ছাড়ার নোটিসকে চ্যালেঞ্জ! বড় পদক্ষেপ করতে চলেছেন ইমরান খান?

|

Oct 15, 2026 | 6:25 PM

বিদেশি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এফআরআরও (FRRO)-র দেওয়া দেশ ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে এবার আইনি পথে হাঁটছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে ভারত ছাড়ার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধে বম্বে হাই কোর্টে পিটিশন দাখিল করতে চলেছেন আমির খানের ভাগ্নে। পিটিশন দাখিলের পরই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানানো হবে বলে আইনি সূত্রে জানা গিয়েছে। মুখ্য বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠী এবং বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আইনি লড়াইয়ে অভিনেতার পক্ষে সওয়াল করছে দেশের অন্যতম শীর্ষ আইন সংস্থাও এমজেডএম লিগাল এলএলপি (MZM Legal LLP)-র আইনজীবী জুলফিকার মেমন, পারভেজ মেমন এবং চিরাগ নায়েক।

গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান খান। আর সেই বিক্ষোভেই যোগ দেওয়ার জেরে পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। ওই প্রতিবাদের পরই বিজেপি নেতা কিরীট সোমৈয়া গাওদেবী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, অভিনেতা মার্কিন নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও বিদেশি আইন লঙ্ঘন করে একটি রাজনৈতিক মিছিলে সরাসরি অংশ নিয়েছেন।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গাওদেবী থানা বিষয়টি ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO)-র কাছে পাঠিয়ে দেয়। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে অভিনেতার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের নোটিস জারি করে। মার্কিন নাগরিকত্ব এবং রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে অভিবাসন ও বিদেশি আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয় ওই নির্দেশিকায়। পাশাপাশি, আগামী ২৮ অক্টোবর বা তার আগেই তাঁকে ভারত ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ইমরান খান একজন ‘ওভারসিজ় সিটিজ়েন অফ ইন্ডিয়া’ বা ওসিআই (OCI) কার্ডধারী। ২০০৫ সালের ওসিআই স্কিম অনুযায়ী ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের ভারতে আজীবন ভিজিট ও বসবাসের ভিসা দেওয়া হলেও, তাঁদের কোনও রাজনৈতিক অধিকার (যেমন ভোট দেওয়া বা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা) দেওয়া হয় না। ২০২৫ সালের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে এই ক্ষমতা রয়েছে যে তারা প্রয়োজনে কোনও বিদেশি নাগরিককে ভারত বা এর নির্দিষ্ট কোনও এলাকায় না থাকার নির্দেশ দিতে পারে। তবে অভিনেতার আইনজীবীদের দাবি, ওসিআই কার্ডধারীদের আইনি অধিকার এবং এই নোটিসের যৌক্তিকতা বিচার করেই আদালতের মাধ্যমে পুরো বিষয়টির সুরাহা করা হবে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us