
গত মাসে কেরলের তিরুঅনন্তপুরমে যখন মোনালিসা ও ফরমান খানের বিয়ে হয়, তখন থেকেই বিতর্কের মেঘ জমেছিল। সমাজমাধ্যমে আলাপের পর ফরমানকে বিয়ে করা নিয়ে মোনালিসার পরিবার সরাসরি ‘লভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তোলে। কিন্তু সেই আইনি লড়াই এবার এক ভিন্ন দিকে মোড় নিল। সম্প্রতি ফরমান দাবি করেছেন, মোনালিসা মা হতে চলেছেন।
মোনালিসার পরিবারের মূল অভিযোগ ছিল যে, তিনি আদতে অপ্রাপ্তবয়স্ক। ফরমান নাকি তাঁর জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র ব্যবহার করে তাঁকে বিয়ে করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ফরমানের বিরুদ্ধে পকসো ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ মোনালিসাকে বয়ান রেকর্ড করার জন্য তলব করেছিল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই ফরমান পাল্টা দাবি তুলেছেন যে, মোনালিসা অন্তঃসত্ত্বা। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তিনি এই মুহূর্তে পুলিশের মুখোমুখি হতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার জট আরও বাড়ছে ফরমানের অসংলগ্ন বয়ানে। কিছুদিন আগে তিনি দাবি করেছিলেন যে মোনালিসা নিখোঁজ। পরে তাঁকে খুঁজে পাওয়া গেলেও, কোথায় এবং কীভাবে পাওয়া গেল— সেই বিষয়ে ফরমান কোনো স্পষ্ট ধারণা দেননি। মোনালিসা নিজে অবশ্য আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন যে, তাঁর পরিবার মিথ্যা কথা বলছে এবং তিনি সাবালিকা।
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে ফরমানের করা এই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার দাবি কতটা সত্যি। একইসঙ্গে মোনালিসার বয়স সংক্রান্ত নথিগুলিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। যদি ফরেনসিক বা মেডিক্যাল রিপোর্টে প্রমাণ হয় যে মোনালিসা সত্যিই অপ্রাপ্তবয়স্ক, তবে ফরমান খানের বিপদ যে বহুগুণ বাড়বে, তা নিশ্চিত। বয়ান রেকর্ড এড়ানোর জন্য এটি কোনো অজুহাত কি না, তা জানতেও তৎপর হয়েছে পুলিশ।
মোনালিসার পরিবার এখনও নিজের দাবিতে অনড়। একদিকে মেয়ের নিখোঁজ হওয়া এবং অন্যদিকে এই বিতর্কিত বিয়ের আইনি প্যাঁচ— সব মিলিয়ে ‘ভাইরাল গার্ল’-এর ভবিষ্যৎ এখন আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে।