Kanchan Mullick: জানেন প্রথম রোজগারের টাকা দিয়ে কী করেছিলেন কাঞ্চন?

Kanchan First Salary: তবে শত ব্যস্ততা আর নানা বিতর্ক বা সাফল্যের ভিড়েও মানুষ কাঞ্চন যে আজও নিজের শেকড় আর ফেলে আসা দিনগুলোকে কতটা আগলে রাখেন, তার এক চমৎকার মিশেল দেখা গেল তাঁর স্মৃতিচারণায়। জীবনের প্রথম উপার্জনের টাকা দিয়ে ঠিক কী করেছিলেন তিনি? আজ সফলতার শীর্ষে থেকেও খোলাখুলি শেয়ার করলেন সেই আবেগঘন গল্প।

Kanchan Mullick: জানেন প্রথম রোজগারের টাকা দিয়ে কী করেছিলেন কাঞ্চন?

|

Oct 05, 2026 | 4:50 PM

সিনেমা হলের পর্দা কাঁপানো নিখাদ কমেডি টাইমিং হোক কিংবা হাসির খোরাক জোগানো মেজাজ—টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক বরাবরই দর্শকদের বিশেষ পছন্দের। পাশাপাশি অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক হিসেবেও তিনি সমানভাবে পরিচিত। তবে শত ব্যস্ততা আর নানা বিতর্ক বা সাফল্যের ভিড়েও মানুষ কাঞ্চন যে আজও নিজের শেকড় আর ফেলে আসা দিনগুলোকে কতটা আগলে রাখেন, তার এক চমৎকার মিশেল দেখা গেল তাঁর স্মৃতিচারণায়। জীবনের প্রথম উপার্জনের টাকা দিয়ে ঠিক কী করেছিলেন তিনি? আজ সফলতার শীর্ষে থেকেও খোলাখুলি শেয়ার করলেন সেই আবেগঘন গল্প।

টিভি নাইন বাংলাকে নিজের প্রথম উপার্জনের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে কাঞ্চন বলেন, টিউশনি করে পাওয়া সেই প্রথম পারিশ্রমিক দিয়ে তিনি নিজের জন্য কিছু না ভেবে সোজা মাকে একটা লিমকার বোতল কিনে দিয়েছিলেন। মায়ের লিমকা খাওয়ার শখ বেশ ভালোই জানা ছিল তাঁর। একইসঙ্গে বাবার জন্যও এক প্যাকেট সিগারেট কিনেছিলেন, তবে তা নিজে হাতে দেওয়ার সাহস বা উপায় না থাকায় মায়ের হাত দিয়েই পাঠিয়েছিলেন। যদিও সেই উপহার বাবা গ্রহণ করেননি, তবুও সেদিনের সেই অনুভূতির কথা আজও তাঁর মনে গেঁথে রয়েছে।

কাঞ্চনের কথায়, মায়ের চাহিদাপত্র ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। তাঁর মুখে কোনওদিন কোনও বায়না শোনা যায়নি। মায়ের হাসিমুখের কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা যোগ করেন, “মাকে যদি দুটো ছুঁচোও এনে দিতাম, উনি খুব হাসিমুখে তা গ্রহণ করতেন। কোনওদিন বলতেন না যে এসবের কী দরকার ছিল!”

পরবর্তী সময়ে যখন পকেটে একটু বেশি পয়সা এল, যখন সত্যি অর্থ উপার্জনের ক্ষমতা তৈরি হল, তখন মায়ের এক অন্য ইচ্ছের কথা জানতে পেরেছিলেন অভিনেতা। পুজো এলেই কাঞ্চন মাকে জানতে চাইতেন, তিনি কী চান। তখন মা শাড়ি বা অন্য কোনও দামি জিনিসের আবদার না করে হাসিমুখে বলতেন, “তুই আমাকে একটা লিমকা খাওয়াস আর ডিম খাওয়াস।”

মায়ের ডিম প্রীতির কথা বলতে গিয়ে এক আবেগঘন মুহূর্তের অবতারণা করেন কাঞ্চন। তিনি জানান, হাজরা পার্কের ধারের বিখ্যাত রাস্তার সেই ডিম ভাজা ও মাঝখান থেকে কাটা মশলা দেওয়া সেদ্ধ ডিমের প্রতি মায়ের অন্যরকম দুর্বলতা ছিল। সেই স্মৃতিচারণ করে কাঞ্চন বলেন, “আমি এক ডজন সেদ্ধ ডিম, দুটো ডাবল ডিমের অমলেট আর দেড় লিটারের একটা বড় লিমকা নিয়ে গেছিলাম মায়ের জন্য। মা কী যে আনন্দ পেয়েছিল!” সেদিনের সেই খুনসুটির কথা মনে করে আজও স্মৃতির সাগরে ভাসে কাঞ্চনের মন। স্মৃতির রোমন্থনে খানিক রসিকতা মেশাতেও ছাড়েননি অভিনেতা। হাসতে হাসতে নিজেই নিজের টিউশনি করানোর দিনগুলোকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আমি যখন টিউশনি করতাম, তখন আসলে একজনের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতাম!”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us