
স্নেহা সেনগুপ্ত
বাইরে বসন্তের ঠান্ডা-গরম হাওয়া… ঠিক যেন ‘বাতাসে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা, কারা যে ডাকিল পিছে, বসন্ত এসে গেছে’। ফাল্গুন মাস। বিয়ের আদর্শ সময় এখন (১৪ মার্চ পর্যন্ত বিয়ের তারিখ রয়েছে)। চারিদিকে সানাই বাজছে। টলিপাড়াতেও বিয়ে লেগেছে। বিয়ে করেছেন অভিনেতা-বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক এবং অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ। এটা কাঞ্চনের তিন নম্বর বিয়ে। আগের দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। এক সন্তানও আছে কাঞ্চনের (দ্বিতীয় বিয়ের পক্ষে)। সেই পুত্রসন্তান ওশের কাস্টডি, অর্থাৎ দেখাশোনার দায়িত্ব এখন প্রাক্তন স্ত্রী অভিনেত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। ১০ জানুয়ারি, ২০২৪। পিঙ্কির সঙ্গে আইনি বিয়ে ভাঙে কাঞ্চনের। ৩৪ দিনের অপেক্ষার পর ১৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীময়ীর সঙ্গে রেজিস্ট্রি ম্যারেজ সম্পন্ন হয়েছে কাঞ্চনের। ১৮ ফেব্রুয়ারি, রবিবার সন্ধ্যায়, সেই বিয়ের ছবি ছয়লাপ হয়ে যায় নেটমাধ্যমের পাতায়। এবং তারপর থেকে কাঞ্চন-শ্রীময়ীকে তুলোধনা করতে থাকে সামাজিক মাধ্যমের একাংশ।
কাঞ্চনের বর্তমান বয়স ৫৩। শ্রীময়ীর ২৬। প্রথমত, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ‘নীতিপুলিশি’ (moral policing) শুরু হয় মূলত কাঞ্চন-শ্রীময়ীর বয়সের ব্যবধানকে কেন্দ্র করেই। দ্বিতীয়ত, এটা কাঞ্চনের তৃতীয় বিয়ে। আগের দুই স্ত্রীকে ছেড়ে কীভাবে তিনি আরও একটা বিয়ে করতে পারেন, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলিং এবং কূকথার ছড়াছড়ি। সেই সঙ্গে কাঞ্চনের বডি শেমিং-ও ছিল আরও একটা কদাকার বিষয়। ওই রোগা-পাতলা চেহারা নিয়ে কীভাবে তিনি তিনজন সুন্দরী মহিলাকে ‘পটালেন’, তা নিয়েও চলেছে কটূক্তির বন্যা। এই পরিস্থিতিতে কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্রী ছিলেন না কাঞ্চনের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী শ্রীময়ী। সমস্ত কটাক্ষ এবং ট্রোলিংকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিয়ের প্রত্যেকটি অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন তিনি। তাঁরা হাসি মুখ জবাব দিয়েছে সব নিন্দার। ২ মার্চ, পরিবার এবং বন্ধুদের উপস্থিতিতে সামাজিক বিয়ে সেরেছেন কাঞ্চন-শ্রীময়ী। আজ ৬ মার্চ, তাঁদের রিসেপশন। যে রিসেপশনে ইন্ডাস্ট্রির লোকজন আমন্ত্রিত। একের পর-এক বিয়ের অনুষ্ঠান এবং লোকের এই কুৎসিত ভর্ৎসনার মধ্যে ক্লান্ত হয়ে TV9 বাংলাকে কিছু মনের কথা বলেছেন কাঞ্চন…
TV9 বাংলা: কেমন আছেন এখন?
কাঞ্চন মল্লিক: এই তো, চলে যাচ্ছে। একার উপর পুরো লোড। বলুন…
TV9 বাংলা: কেন? একার উপর পুরো লোড কেন মনে হচ্ছে? আপনি তো এখন দোকা?
কাঞ্চন মল্লিক: আমার তো তিনকুলে কেউ নেই। লোকবল খুবই কম। থাকার মধ্যে দাদা-বউদি, কিছু আত্মীয়স্বজন, ব্য়স… লোক কম, লোড বেশি।
TV9 বাংলা: শ্রীময়ীর সঙ্গে বিয়ের পর কেমন লাগছে নতুন সংসার?
কাঞ্চন মল্লিক: সব ঠিকই আছে। চাপ নেই। চাপ তো লোকেদের। কেন না, লোকেরা একটা প্রবাদকে সত্যি প্রমাণ করে দিল। আগে তো ভাবতাম, প্রবাদ প্রবাদই হয়। কিন্তু এখন দেখছি প্রবাদের সত্য়তা আছে, ‘যাঁর বিয়ে তাঁর হুঁশ নেই, পাড়াপড়শির ঘুম নেই…’।
TV9 বাংলা: এই প্রবাদ আর কারও জন্যে না হলেও আপনার জন্য ১০০% খাঁটি বলছেন…?
কাঞ্চন মল্লিক: শ্রীময়ী আর আমার বিয়েকে কেন্দ্র করে মানুষের কত ক্রিয়েটিভিটি বেরিয়ে এসেছে। আমি তো জানতামই না আমাদের রাজ্যের মানুষের মধ্যে এত শিল্প লুকিয়ে আছে। তাঁরা কী সুন্দর মিম তৈরি করেন, ট্রোল করেন। কত সমস ব্য়য় করেছেন তাঁরা আমার জন্য। ভাবুন, একজন মানুষকে গালাগাল করতেও কত সময় ব্যয় করেন তাঁরা। কিন্তু এই মানুষগুলো যদি আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যুক্ত হতে পারতেন, দারুণ হত।
TV9 বাংলা: নান্দনিকভাবে বলছেন?
কাঞ্চন মল্লিক: কারেক্ট, কারেক্ট! এই যে শব্দটা আপনি ব্যবহার করলেন, ‘নান্দনিক’… ওটাই। নান্দনিকভাবে একটু যদি ইন্ডাস্ট্রির জন্য ছবি-টবি তৈরি করে ব্যবহার করতেন তাঁরা, কত ভাল হত বলুন তো। সস্তার একটা ‘ইয়ে’তে (ইউটিউব চ্যানেলকে বোঝাতে চলেছেন কাঞ্চন) বসে অ্যাঙ্কারিং করেছেন আমার জন্য, তাঁরা যদি অ্যাঙ্কারিংটাকে একটু মেজেঘষে নিতেন, তা হলে কত ভাল হত। আমি তো নিজেও অ্যাঙ্কারিং দিয়েই শুরু করেছিলাম কেরিয়ারটা (সেই শোয়ের নাম ছিল ‘জনতা এক্সপ্রেস’। একদা ইটিভিতে সম্প্রচারিত হত এই শো)। ২৭টা বছর ইন্ডাস্ট্রিতে কাটিয়ে দিলাম আমিও।
TV9 বাংলা: শ্রীময়ী কেমন আছেন?
কাঞ্চন মল্লিক: ও খুবই ভাল আছে। আমিও ওকে পেয়ে খুবই ভাল আছি। আমি একটা কথাই বলতে চাই, বর্তমান নিয়ে বাঁচুন সকলে। মায়ের মৃত্যুর পর দিন যখন শুটিং করতে গিয়েছিলাম, আমার পাশে কিন্তু কেউ ছিলেন না। আমাদের কিন্তু সে দিন মনে শোক নিয়ে লোককে হাসাতে হয়েছিল। বাবার মৃত্যুর সময়ও আমার পাশে কেউ ছিলেন না। বুকে পাথর চাপা দিয়ে কাজ করেছি।
TV9 বাংলা: আপনার এই মানবিক দিকটা কেউ দেখতে পাচ্ছে না… দুঃখ হয় না?
কাঞ্চন মল্লিক: কী আর বলি বলুন তো? কাজ করে যাই মন দিয়ে। তারপর বাড়িতে চলে আসি।
TV9 বাংলা: বিয়ের পর কি শ্রীময়ী বাড়ির দায়িত্বটা পুরোটা নিয়ে নিয়েছেন?
কাঞ্চন মল্লিক: একদম। ও তো আগে থেকেই বাড়ির পুরো দায়িত্বটা নিয়ে নিয়েছিল। ও তো সবটাই করে। আমি কিছুই করি না।
TV9 বাংলা: রান্না করে খাওয়ায় আপনাকে?
কাঞ্চন মল্লিক: ও মা। দারুণ রান্না করেন আমার বউ। মটন রাঁধেন দারুণ। দারুণ শুটকি মাছের ঝুড়ি রান্না করেন। বাড়িতে পুজো হয়। আমার বাড়িতে যেহেতু প্রতিষ্ঠিত রাধামাধব আছেন, গোপাল আছেন, মা কালী আছেন, সেই ভোগের রান্নাও শ্রীময়ী করেন।
TV9 বাংলা: পাক্কা গিন্নি যাকে বলে…
কাঞ্চন মল্লিক: আমার সমস্ত দায়িত্ব এখন শ্রীময়ীর। ও এখন প্রকৃত অর্থে একজন আদর্শ হোমমেকার। আমার boss আমার বউ। বস সবসময় রাইট…