
গত সোমবারই চলতি বছরের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (Kolkata International Film Festival) দিনক্ষণ ঘোষণাী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ উৎসাহ ও আগ্রহেই এ বছর উৎসবের আয়োজনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিলোত্তমায় অনুষ্ঠিত হবে এই আন্তর্জাতিক সিনে-উৎসব। আর এবার চলচ্চিত্র উৎসবের বিশেষ অতিথিদের নাম ঘোষণা করে বড় চমক দিলেন মহাগুরু। মঙ্গলবার নন্দনে বিশেষ বৈঠক শেষে মিঠুন চক্রবর্তী জানান, এবারের সিনে উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে চলেছেন দক্ষিণী সিনেমার মেগাস্টার ‘থালাইভা’ রজনীকান্ত এবং ‘বাহুবলী’ খ্যাত তারকা প্রভাস। তবে এখানেই চমক শেষ করেননি মিঠুন। ফাঁস করলেন, আর কোন কোন তারকা আসতে পারেন, এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে। এই বৈঠকে মিঠুন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল,পূর্ণিমা চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও জিৎ।
মিঠুনের কথায়, অতিথি তালিকায় রয়েছেন অনুপম খের, পরেশ রাওয়াল এবং কঙ্গনা রানাওয়াতের মতো বলিউডের দাপুটে তারকারাও। নন্দনে চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির বিশেষ বৈঠক থেকে বেরিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, ” এবারের সিনে উৎসবে ফিল্ম বাজারকে আমরা বিশেষভাবে প্রমোট করব। কমিটির শিডিউল এবং কে কী দায়িত্ব সামলাবেন তা নির্ধারণ করা হয়েছে। কলকাতার ল্যান্ডমার্ক জায়গাগুলোকে উৎসবের উপযোগী করে সাজিয়ে তোলা হবে। রজনীকান্ত, প্রভাস, অনুপম খের, পরেশ রাওয়াল ও কঙ্গনা রানাওয়াত আসছেন। বিদেশ থেকেও খ্যাতিমান অতিথিদের আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে এই প্রথমবার রজনীকান্তের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে কলকাতার দর্শকদের জন্য বাড়তি পাওনা। বিশেষ করে এর রজনীকান্তের উপস্থিতি মিঠুনের সঙ্গে তাঁর বহু পুরনো ও গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবার চাক্ষুষ করবে গোটা বাংলা। আটের দশক থেকে শুরু করে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে লড়াইয়ের দিনগুলিতে দুজন দুজনের পাশে থেকেছেন। ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকা সত্ত্বেও নিজেদের কঠোর পরিশ্রম ও ক্যারিশমায় তাঁরা স্ব-স্ব রাজ্যে এবং হিন্দি বলয়ে ‘সুপারস্টার’ হয়ে ওঠেন দুজনেই। মিঠুন যদি সিনেমার জগতের মহাগুরু হন, তাহলে দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির থালাইভা রজনীকান্ত। ‘ভ্রষ্টাচার’, ‘ভাগ্যদেবতা’র মতো সুপারহিট ছবিতে একসঙ্গে কাজও করেছেন তাঁরা। সম্প্রতি রজনীকান্তের ‘জেলার ২’ ছবিতেও দেখা গিয়েছে মিঠুনকে। পর্দার বাইরেও তাঁদের এই অফ-স্ক্রিন ‘ব্রোম্যান্স’ ও অটুট বন্ধুত্ব সিনেপাড়ায় সর্বদা চর্চায় থেকেছে। ফলে তিলোত্তমায় এই দুই মহাতারকার পুনর্মিলন যে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে এক নতুন আবেগ ও বাড়তি উন্মাদনা যোগ করবে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।