
রাহুল অরুণোদয়ের অস্বাভাবি মৃত্য়ুর পর থেকেই টলিউড তোলপাড়। রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের স্বার্থেই একজোট টলিপাড়া। ইতিমধ্যেই লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ করবেন না বলে জানিয়েছেন কলাকুশলীরা। আর তারপর থেকেই লীনা এবং তাঁর প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে একে একে মুখ খুললেন টলিউডের অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা। এবার মুখ খুললেন কনীনিকা। প্রযোজনা সংস্থার নাম না করেই ক্ষোভ উগড়ে দিলেন অভিনেত্রী।
টলিউডের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে নাম না করে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। আট বছর আগে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক ‘অমানবিক’ আচরণের কথা প্রকাশ্যে এনে বিনোদন জগতের অন্ধকার দিকটি ফের সামনে নিয়ে এলেন অভিনেত্রী। সঙ্গে নাম না নিয়েই লীনা গঙ্গোপাধ্য়ায়ের প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসকেই যেন একহাত নিলেন কনীনিকা।
ঠিক কী লিখেছেন কনীনিকা?
কনীনিকা তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন, আজ থেকে আট বছর আগে যখন তিনি প্রথম সন্তান কিয়ার জন্ম দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, সেই সময় এক চরম আর্থিক ও মানসিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে। অভিনেত্রীর দাবি, টানা তিন মাস কাজ করার পরও তাঁকে প্রাপ্য পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ‘স্পেশাল কমিটি’ গঠন করা হলেও সেখান থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি এক টাকাও পাবেন না এবং তাঁকে আইনি লড়াইয়ের কথাও বলা হয়েছিল বলে কনীনিকা জানিয়েছেন তাঁর এই পোস্টে। তার উত্তরে কনীনিকা লিখেছেন, “আমায় কেস করতে বলা হয়েছিল, কিন্তু আমি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম। শারীরিক জটিলতা বাড়ছিল সেই সময়।” পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, পেটে সন্তান নিয়ে অভাবের চরম রূপ দেখতে হয়েছিল তাঁকে। সন্তানের সুরক্ষার কথা ভেবেই তখন আইনি লড়াইয়ের থেকে শরীর ও মনের সুস্থতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি।
দীর্ঘদিন চুপ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে অভিনেত্রীর। বিশেষ করে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্য়ুর ঘটনা এখনও মেনে নিতে পারছেন না অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্ট লেখেন, এতদিন সব কিছু প্রায় ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, “এটা বাড়াবাড়ি হয়ে গেল, এটা মেনে নিতে পারছি না!”
ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, শৈবাল-লীনার প্রযোজনায় ‘অন্দরমহল’ ধারাবাহিক করার সময় পারিশ্রমিক নিয়ে অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রযোজনা সংস্থার তীব্র বিরোধিতা হয়। অভিনেত্রীর দাবি ছিল প্রযোজনা সংস্থার থেকে ১১ লক্ষ টাকা পান তিনি। লীনার পাল্টা দাবি ছিল কনীনিকা যা কাজ করেছে, তার চাইতে বেশিই টাকা পেয়েছেন। উল্টে, প্রযোজনা সংস্থা ৭ লক্ষ টাকা কনীনিকার থেকে পায়। এর পর আর্টিস্টস ফোরামেও এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তাঁরা আইনি লড়াইয়ে যেতে বলেন কনীনিকাকে। তবে অভিনেত্রী সেই সময় অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায়, সেটা সম্ভব হয়নি। টিভি নাইন বাংলাকে কনীনিকা জানান, ”অতীতের ঘটনা সবাই জানে, নতুন করে সেটা বলার কিছু নেই। আমি শুধু রাহুলের মৃত্য়ুর ন্যায় বিচার চাই। রাতে ঘুমোতে পারছি না। রাহুল আমার ভাইয়ের মতো ছিল।”