
১৯৭৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল রাজ কাপুরের বিখ্যাত ছবি ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’। সাহসী অবতারে জিনত আমনের অভিনয় আর ছবির কালজয়ী গান—সব মিলিয়ে সিনেমাটি বলিউড ইতিহাসে স্থান করে নেয়। তবে খুব কম মানুষই জানেন, এই ছবি রাজ কাপুর সত্তরের দশকে নয়, বরং ১৯৫০-এর দশকেই তৈরি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। আর সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, ছবির মুখ্য চরিত্রে কোনও প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী নন, রাজ কাপুরের প্রথম পছন্দ ছিলেন সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর নিজে! কিন্তু পরিচালকের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যেই ভেস্তে যায় পুরো আয়োজন।
পঞ্চাশের দশকেই ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’-এর মূল ভাবনা ও চিত্রনাট্য তৈরি করে ফেলেছিলেন রাজ কাপুর। ছবির গল্পটি ছিল এক অসাধারণ সুকণ্ঠী নারী এবং তাঁর জীবনের প্রেম নিয়ে। সুরের জাদুকর লতা মঙ্গেশকরের চেহারার সারল্য ও কণ্ঠের মাধুর্যই এই চরিত্রের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করেছিলেন রাজ। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলেও শেষপর্যন্ত জল গড়ায় অন্যদিকে।
তৎকালীন এক জনপ্রিয় বিনোদন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লতাজিকে ছবির চিত্রনাট্য শোনানোর পর একটি অদ্ভুত আবদার করে বসেন রাজ কাপুর। তিনি জানান, চরিত্রের লুক টেস্টের জন্য গায়িকাকে একটি ভেজা শাড়ি পরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হবে। রাজ কাপুরের এই প্রস্তাবে স্বাভাবিকভাবেই বেশ অস্বস্তিতে পড়েন এবং ক্ষুব্ধ হন লতা।
তবে বিতর্কের সেখানেই শেষ নয়। বিখ্যাত সাংবাদিক বীর সাংভি তাঁর একটি বইয়ে রাজ কাপুরকে নিয়ে লিখতে গিয়ে ঘটনার পেছনের আসল বিস্ফোরক কারণটি তুলে ধরেছেন। বীর সাংভির লেখা অনুযায়ী, লতাজিকে রাজি করাতে গিয়ে রাজ কাপুর হুট করে বলে বসেন, “আমার এমন একজন অভিনেত্রীকে প্রয়োজন, যাঁর রূপ একেবারেই সাধারণ বা দেখতে কুরূপা হলেও কণ্ঠ হবে অপরূপ। আর সেই গান শুনেই পুরুষ তাঁর প্রেমে পড়বে।”
নিজের রূপ ও চেহারা নিয়ে রাজ কাপুরের এমন সোজাসাপ্টা ও অপমানজনক মন্তব্য মেনে নিতে পারেননি লতা মঙ্গেশকর। চরম অপমানিত বোধ করে সঙ্গে সঙ্গেই ছবিটির প্রস্তাব নাকচ করে দেন তিনি। পরবর্তীতে রাজ কাপুর নিজের ভুলের জন্য লতাজির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেও, ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’-এ অভিনয় করার সিদ্ধান্ত থেকে আর সরেননি সুরকোকিলা। পরে বহু বছর পর জিনত আমনকে নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করেন রাজ কাপুর।