না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন আশা ভোঁসলে; শোকস্তব্ধ সুরকার জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

কেবল গায়িকা হিসেবেই নয়, আশা ভোঁসলের বহুমুখী প্রতিভার প্রশংসায় পঞ্চমুখ জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ইন্ডিয়ান ক্লাসিক্যাল থেকে শুরু করে ওয়েস্টার্ন, ফোক, রবীন্দ্রসঙ্গীত কিংবা যে কোনও আধুনিক গান— এমন কোনও জঁরা (genre) নেই যা তিনি স্পর্শ করেননি। জিতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, "প্রত্যেকটা গান যখন উনি পারফর্ম করেন, ওটা শুধু গান থাকে না, ওটার মধ্যে একটা ড্রামা থাকে, ওটার মধ্যে একটা অ্যাক্টিং থাকে। ওটা ইন ইটসেলফ একটা বিশাল বড় লার্নিং ডেইজ় ফর দ্য আপকামিং জেনারেশন।"

না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন আশা ভোঁসলে; শোকস্তব্ধ সুরকার জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়
৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে

Apr 12, 2026 | 9:19 PM

সুরের জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা। চিরদিনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল এশিয়ার ‘নাইটেঙ্গেল’-এর কণ্ঠ। ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে। মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে আজ দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মাল্টিপল অর্গান ফেলিওরের জেরে আট দশকের দীর্ঘ সঙ্গীত সফরের অবসান হল। প্রিয় ‘আশা দিদি’-র মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন প্রখ্যাত সুরকার জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ওঁর মতে, লতা মঙ্গেশকর হোন বা আশা ভোঁসলে— এঁরা মরণশীল নন। নিজেদের সৃষ্টির মাধ্যমেই এঁরা চিরকাল বেঁচে থাকেন।

আশা ভোঁসলের চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না জিৎ। স্মৃতিচারণায় আবেগপ্রবণ সুরকার বলেন, “স্কুল জীবন থেকে আমি ওঁকে শুনে আসছি, ওঁর ফ্যান আমি। আই অ্যাম সো লাকি যে আমি যখন যশ চোপড়া জির সঙ্গে কাজ করছিলাম, ‘মেরে ইয়ার কি শাদি হ্যায়’ ছবিতে, ‘শারারা শারারা’ গানে ওঁর সঙ্গে কাজ করার একটা সৌভাগ্য হয়েছিল। ওই রেকর্ডিংয়ের প্রচুর মুহূর্ত আর মেমরিজ আমার কাছে আজও আছে।” জিতের বিশ্বাস, আগামী ১০০ বছরে এই লেভেলের শিল্পী আবার পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।”

কেবল গায়িকা হিসেবেই নয়, আশা ভোঁসলের বহুমুখী প্রতিভার প্রশংসায় পঞ্চমুখ জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ইন্ডিয়ান ক্লাসিক্যাল থেকে শুরু করে ওয়েস্টার্ন, ফোক, রবীন্দ্রসঙ্গীত কিংবা যে কোনও আধুনিক গান— এমন কোনও জঁরা (genre) নেই যা তিনি স্পর্শ করেননি। জিতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, “প্রত্যেকটা গান যখন উনি পারফর্ম করেন, ওটা শুধু গান থাকে না, ওটার মধ্যে একটা ড্রামা থাকে, ওটার মধ্যে একটা অ্যাক্টিং থাকে। ওটা ইন ইটসেলফ একটা বিশাল বড় লার্নিং ডেইজ় ফর দ্য আপকামিং জেনারেশন।” ওঁর ভয়েস কখনও ভোলার মতো নয় বলেই মনে করেন তিনি।

মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলিতে ১৯৩৩ সালে জন্ম। মাত্র ১০ বছর বয়সে যাত্রা শুরু করে ১১ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন তিনি। ‘ও হাসিনা জুলফওয়ালি’ থেকে ‘দিল চিজ় ক্যায়া হ্যায়’— তাঁর বৈচিত্র্যের কোনও তুলনা নেই। ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে এবং ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণে ভূষিত হন এই সুরসম্রাজ্ঞী। ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী গণপতরাও ভোঁসলে এবং পরে আর ডি বর্মনের সঙ্গে ঘর বাঁধলেও চড়াই-উতরাই কম ছিল না। মেয়ে বর্ষা এবং বড় ছেলে হেমন্তকে হারানোর শোকও সহ্য করতে হয়েছিল তাঁকে।

আশাজির প্রয়াণে শোকাতুর জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় পরিশেষে বলেন, “আশা জির মৃত্যু নেই। উনি যেখানেই থাকুন, যে ফর্মেই থাকুন, উনি অলওয়েজ় কুইন অফ মিউজ়িক হয়েই থাকবেন। উনি তাঁর থাউজেন্ডস অফ সংস-এর মধ্যে দিয়ে আমাদের মধ্যে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। উনি আমাদের সঙ্গে অলওয়েজ আছেন। যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন।” আগামিকাল বিকেল ৪টের সময় মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে সম্পন্ন হবে তাঁর শেষকৃত্য।

Follow Us