
বাংলা সিনেমার বহু অভিনেত্রীদের নিয়ে নানা ধরণের খবর মাঝে মধ্যেই হেডলাইনে জায়গা পায়। কাজের জগত ছাড়াও ব্যক্তিগত জীবনের নানা খবরে দর্শকদের উৎসাহ দেখার মত তবে একজন অভিনেত্রী ছিলেন যাঁর অকাল মৃত্যুর খবর দর্শকদের আজও নাড়িয়ে দিয়ে যায়।
অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরীর উন্নতির শিখরে থাকতেই হঠাৎ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তাঁর সেই দুর্ঘটনা নিয়ে আজও নানা গুঞ্জন চলতে থাকে অনেকেই এই দুর্ঘটনার মধ্যে হত্যার ষড়যন্ত্র আঁচ করে। মহুয়া রায় চৌধুরী এমন এক অভিনেত্রী যাঁর মৃত্যুর পরেও যে ছবি গুলি মুক্তি পেয়েছিল, সবকটা ছবি সুপারহিট হয়। মহুয়া সেই সময় একসঙ্গে বহু ছবির কাজ করছিলেন। কিছু ছবির কাজ শেষ হয়েছিল, কিছু ছবির কাজ শেষ করতে পারেননি। তবে ছবি গুলো মুক্তি পেয়েছিল। এর মধ্যে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ও ‘অভিমান ‘ সবথেকে বেশি সাফল্য পেয়েছিল। এই দুই ছবির ডাবিং নিয়ে সমস্যা দেখা দেয় সেই সময় অভিনেত্রী অনামিকা সাহার কাছে সাহায্য চিন প্রযোজকরা।
সম্প্রতি টিভিনাইন বাংলার সাক্ষাৎকারে উঠে আসে সেই গল্প। অনামিকা সাহা বলেন, ‘ অনেকেই জানেন না মহুয়ার আকস্মিক মৃত্যুর পর ওর ছবিতে ওর গলার স্বর দিয়েছিলাম। বিরেশ চট্টোপাধ্যায় আমার কাছে এসে বলে অনুরাগের ছোঁয়া ছবিতে মহুয়ার যা কঠিন চরিত্র, সবাই করতে পারবে না। তাছাড়া মহুয়া আমার খুব ভাল বন্ধু ছিল। তাই আমি প্রথমে করতে রাজি হয়নি, আমার মনে হয়েছিল ওকে দেখলেই আমার কান্না পাবে। তবে পরিচালক প্রযোজক বললেন আমি ছাড়া কেউ পারবে না। তাই অনুরাগের ছোঁয়া আর অভিমানেও মহুয়ার চরিত্রে আমি স্বর দিয়েছিলাম। ”
তিনি আরও বলেন, “আমার সঙ্গে মহুয়ার খুব বন্ধুত্ব ছিল,’সৎ মা ‘ নামে একটি ছবিতে আমার একটা ছোট্ট চরিত্র ছিল। মহুয়া আমায় খুব পছন্দ করতো। আমাকে বলতো একটা প্রেম কর বা বিয়ে কর। তোর চোখ কথা বলে, তুই ভালো অভিনেত্রী হবি। বিধাতার কি পরিকল্পনা আজও ওর শেষ ছবি গুলো চললে পর্দায় মহুয়াকে দেখা যায়, আর ওর মুখে আমার কণ্ঠস্বরে সংলাপ শোনা যায়।”