
নব্বইয়ের দশকের বলিউডে মমতা কুলকর্নি ছিলেন এক মায়াবী নাম। কিন্তু সাফল্যের মধ্যগগনেই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। মাঝে কেটে গিয়েছে আড়াই দশক। কখনও মাদকপাচার কাণ্ডে নাম জড়ানো, কখনও মহাকুম্ভে সন্ন্যাসিনী হওয়া, আবার কখনও বিদেশের মাটিতে আত্মগোপন— মমতার (Mamata Kulkarni) জীবন ছিল রহস্যে ঘেরা। দীর্ঘ বিরতির পর টিভি পর্দায় তাঁর ফেরা সেই পুরনো ধোঁয়াশাকেই যেন নতুন করে উসকে দিল।
মমতা কুলকর্নির একটি পুরনো ভিডিও সম্প্রতি ফের ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁকে দাউদ ইব্রাহিমের (Dawood Ibrahim) ভূয়সী প্রশংসা করতে দেখা যায়। দাউদকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা দিতে নারাজ ছিলেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি ছিল, দাউদ ইব্রাহিম দেশের কোনও ক্ষতি বা বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত নন। যদিও পরবর্তীতে নিজের বয়ান বদলে তিনি জানান, তিনি আসলে দাউদ নয়, তাঁর স্বামী বলে পরিচিত ভিকি গোস্বামীর কথা বলছিলেন। তবে এই ভিকির সঙ্গেই মমতার নাম জড়িয়েছিল ২০০০ কোটি টাকার আন্তর্জাতিক মাদকপাচার মামলায়।
২০১৫ সালে বিশাল অঙ্কের মাদকপাচার কাণ্ডে নাম জড়ানোর পর একটা লম্বা সময় ভারতের বাইরে ছিলেন মমতা। কেনিয়া থেকে শুরু করে দুবাই— তাঁর অবস্থান নিয়ে জল্পনার শেষ ছিল না। যদিও আইনি লড়াইয়ের পর সেই অভিযোগ থেকে তিনি অব্যাহতি পান। ভারতে ফিরে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলেন। তাঁর দাবি ছিল, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি আধ্যাত্মিকতায় ডুবে ছিলেন এবং সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন।
এক সময় যে অভিনেত্রী সাহসী ফটোশুটের জন্য চর্চায় থাকতেন, তাঁর মুখে আধ্যাত্মিকতার বাণী শুনে অবাক হয়েছিলেন অনেকেই। মহাকুম্ভের মেলায় তাঁর সন্ন্যাসিনী রূপ দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন রূপোলি পর্দার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক হয়তো চিরতরে চুকে গিয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো-তে বিচারকের আসনে বসে তিনি প্রমাণ করে দিলেন, ‘লাইমলাইট’ থেকে দূরে থাকা তাঁর পক্ষে হয়তো আর সম্ভব নয়।
২৫ বছর আগের সেই বিতর্কিত মন্তব্য হোক বা দাউদের সঙ্গে তাঁর কথিত যোগাযোগ— মমতার ছায়াসঙ্গী হয়ে থেকেছে রহস্য। এখন দেখার, এই নতুন যাত্রায় তিনি পুরনো বিতর্ক পেছনে ফেলে দর্শকদের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারেন।