Suchitra Sen: লিফটের ভিতর সুচিত্রাকে দেখেই মণীষার চোখ কপালে! তারপর যা ঘটে তা অবিশ্বাস্য

Manisha Koirala on Suchitra Sen: লোকচক্ষুর অন্তরালে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার পর তাঁর একটিমাত্র ঝলক পাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকতেন গুণমুগ্ধরা। হেমা মালিনী থেকে শুরু করে মাধুরী দীক্ষিত—কলকাতায় পা রাখলেই সেন বাড়িতে সুচিত্রা-দর্শনের আকুতি পাঠাতেন বিটাউনের তাবড় তারকারা।

Suchitra Sen: লিফটের ভিতর সুচিত্রাকে দেখেই মণীষার চোখ কপালে! তারপর যা ঘটে তা অবিশ্বাস্য

|

Sep 23, 2026 | 6:24 PM

বাঙালি মধ্যবিত্তের অন্দরমহল থেকে শুরু করে মুম্বইয়ের রুপোলি জগত—‘মহানায়িকা’ সুচিত্রা সেনের অলৌকিক মোহের কাছে মাথা নত করেছেন প্রায় সকলেই। লোকচক্ষুর অন্তরালে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার পর তাঁর একটিমাত্র ঝলক পাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকতেন গুণমুগ্ধরা। হেমা মালিনী থেকে শুরু করে মাধুরী দীক্ষিত—কলকাতায় পা রাখলেই সেন বাড়িতে সুচিত্রা-দর্শনের আকুতি পাঠাতেন বিটাউনের তাবড় তারকারা। কিন্তু সুচিত্রা সেনের সান্নিধ্য পেতে বলিউডের ‘ইলু ইলু’ গার্ল মণীষা কৈরালা যা করেছিলেন, তা আজও পরম বিস্ময়ের।

কী করেছিলেন মণীষা?

প্রথম ছবি থেকেই সিনেপ্রেমীদের মন জয় করে নেওয়া মণীষা ছিলেন সুচিত্রা সেনের অন্ধ ভক্ত। কেরিয়ারের শুরুর দিকেই মনস্থির করেছিলেন, যেমন করেই হোক একবার ‘ম্যাডাম’-এর দেখা পেতেই হবে। একবার শুটিংয়ের কাজে কলকাতায় এসে কাউকে কিছু না জানিয়ে আচমকাই সুচিত্রার বাড়ির দরজায় কড়া নেড়েছিলেন মণীষা। কিন্তু কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ পেরিয়ে সেবার খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল তাঁকে। তবে হার মানেননি এক সময়ের নেপালের এই রাজকন্যা।

লেখক সুমন গুপ্ত তাঁর ‘যে জন আছেন নির্জনে’ গ্রন্থে মণীষার সেই অভাবনীয় কাণ্ডের কথা বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। সুচিত্রা সেনের কন্যা মুনমুন সেনের কাছে শেষমেশ কাকুতি-মিনতি শুরু করেন মণীষা। মুনমুন তাঁকে পরিষ্কার জানান, “মা তো বাড়িতে কারও সঙ্গে দেখা করেন না। তবে বিকেলে আইনজীবীর বাড়ি যাওয়ার জন্য উনি লিফটে নামবেন। তুমি যদি লিফটের ভেতর ওঁর সামনে পড়তে পারো, একমাত্র তবেই দেখা হওয়া সম্ভব।”

এমন সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায়? বিকেল হতেই নির্ধারিত সময়ে সুচিত্রার আবাসনে পৌঁছে যান মণীষা। সুচিত্রা সেন যখন লিফটে প্রবেশ করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই বিদ্যুৎবেগে লিফটের ভেতরে ঢুকে পড়েন তিনি। চোখের সামনে হাজারো মানুষের কল্পনার রূপসী, সাক্ষাৎ মহানায়িকা! নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তরুণী মণীষা।

আর এক মুহূর্তও দেরি না করে সুচিত্রার সামনে হাঁটু মুড়ে বসে পড়েন তিনি। পরম শ্রদ্ধায় দুই হাতে সুচিত্রা সেনের পা জড়িয়ে ধরে ব্যাকুল কণ্ঠে বলে ওঠেন, “ম্যাডাম! আমি আপনার অন্ধ অনুরাগী। হিন্দি ছবিতে একটু-আধটু অভিনয় করার চেষ্টা করি। এতদিন ধরে আপনার সঙ্গে একটু দেখা করার চেষ্টা করছিলাম। দয়া করে আমাকে আশীর্বাদ করুন!”

হঠাৎ লিফটের ভেতর এমন নাটকীয় ও আবেগঘন কাণ্ডে মুহূর্তের জন্য স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন খোদ সুচিত্রা সেনও। তবে মণীষার এই আন্তরিকতায় আপ্লুত হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে মেয়ে মুনমুন সেনকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে মহানায়িকা বলেছিলেন, “মেয়েটা সামনে থেকে দেখতে সত্যি খুব মিষ্টি। ও যেভাবে এসে আশীর্বাদ চাইল, আমার বেশ ভালো লেগেছে।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us