
সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়ের অন্তর্ধান রহস্য। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তিন সপ্তাহ ছুঁইছুঁই, কিন্তু পুলিশি তদন্তে এখনও কোনও আশার আলো নেই। স্বামীর সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘোরা স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় স্বামীকে ফিরে পেতে নতুন পদক্ষেপ নিলেন। সংবাদপত্রে উৎসবের ছবি দিয়ে, নিখোঁজ কলমে দিলেন বিজ্ঞাপন।
সম্প্রতি মৌপিয়া তাঁর পোস্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। তিনি আশঙ্কা করছেন যে, তিনি হয়তো বেশিদিন আর এই লড়াই চালিয়ে যেতে পারবেন না, তাই কিছু সত্য তথ্য জানিয়ে যেতে চান। মৌপিয়ার দাবি, পুলিশকে সমস্ত তথ্য দেওয়া হলেও তদন্তের গতি নিয়ে তিনি সন্ধিহান। ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে কাজের সূত্রে আলাপ এবং পরবর্তীতে গভীর বন্ধুত্ব ও নির্ভরশীলতা থেকেই তাঁদের বিবাহ। তবে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন কেন কখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তার পেছনে ছিল এক ভয়ংকর কারণ।
মৌপিয়া জানান, ২০১৯ সাল থেকে উৎসব এক ভয়াবহ সাইবার হামলার শিকার হচ্ছিলেন। কোনও এক অজ্ঞাত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। উৎসব কোনও ছবি বা পোস্ট করলেই অগুণতি ফেক প্রোফাইল থেকে ভেসে আসত কুরুচিকর ও অশ্লীল মন্তব্য। মুছতে গেলে সেই সংখ্যা আরও বেড়ে যেত। এই নিয়ে তৎকালীন সময়ে সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ জানানো হলেও মেলেনি সুরাহা।
ধীরে ধীরে সেই হামলা ফেসবুক পেরিয়ে ইনস্টাগ্রাম এবং উৎসবের ব্যক্তিগত জীবনেও থাবা বসাতে শুরু করে। মৌপিয়ার কথায়, “বাইরে থেকে কেউ একজন উৎসবকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে চেয়েছিল। এটা ছিল নিছকই এক নীল নকশা করা প্রতিহিংসা।”
এই লাগাতার ভার্চুয়াল হেনস্থার ফলে উৎসব মানসিকভাবে কুঁকড়ে যেতে শুরু করেন। তিনি বন্ধু-বান্ধব, পরিবার এবং সহকর্মীদের থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। ছবি তোলা হলে বা কেউ তাঁকে ট্যাগ করলে সেই ‘অদৃশ্য শত্রু’ আবার সক্রিয় হয়ে উঠবে—এই আতঙ্কে উৎসব পার্টি, অনুষ্ঠান বা জনসমক্ষে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এমনকি মৌপিয়াকেও তিনি বারণ করেছিলেন সোশাল মিডিয়ায় তাঁদের কোনও ছবি দিতে।
১৯ দিন ধরে এই আতঙ্কই কি উৎসবকে নিরুদ্দেশ হতে বাধ্য করল? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র?