
বলিউডের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা তারকাখচিত গানের তালিকা তৈরি করলে প্রথম সারিতেই নাম থাকবে ফারাহ খান পরিচালিত ‘ওম শান্তি ওম’ সিনেমার ব্লকবাস্টার ট্র্যাক ‘দিওয়াঙ্গি দিওয়াঙ্গি’র। সলমন খান, সইফ আলি খান, রানি মুখোপাধ্যায়, শিল্পা শেঠি থেকে শুরু করে রেখা—হিন্দি সিনেমার একঝাঁক প্রথম সারির তারকাকে এক ফ্রেমে হাজির করে ইন্ডাস্ট্রিতে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন ফারাহ। তবে প্রায় ৩২ জন মহাতারকার গমগম হাটে শুটিং ফ্লোরের সমস্ত আলো একা কেড়ে নিয়েছিলেন একজনই—আমাদের অতি পরিচিত ‘মহাগুরু’ তথা ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ মিঠুন চক্রবর্তী!
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব ভ্লগে মিঠুন চক্রবর্তীর মুম্বইয়ের বাসভবনে আড্ডা দিতে গিয়ে ‘দিওয়াঙ্গি দিওয়াঙ্গি’ শুটিং সেটের সেই অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা ও অভূতপূর্ব স্টারডমের স্মৃতি ফের উসকে দিলেন ফারাহ খান।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফারাহ জানান, শুটিংয়ের দিন বলিপাড়ার তাবড় তাবড় তারকারা একে একে সেটে আসছিলেন। কিন্তু মিঠুন চক্রবর্তী ফ্লোরে পা রাখতেই যে কাণ্ড ঘটে, তা এককথায় অকল্পনীয়! উপস্থিত টেকনিশিয়ান ও ক্রু মেম্বারদের মধ্যে মহাগুরুকে একঝলক দেখার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। পরিস্থিতি এমনই দাঁড়ায় যে, সেটের অনেক উঁচুতে কাজ করতে থাকা লাইটম্যানও কাজ ফেলে তাড়াহুড়ো করে লাফিয়ে নীচে নেমে আসেন প্রিয় ‘মিঠুনদা’কে কাছ থেকে দেখার জন্য!
ফারাহ আরও একটি বড় খবর ফাঁস করে বলেন, সেটের ভিড়ের মধ্যে এক মহিলা নাকি মিঠুন চক্রবর্তীকে দেখেই সোজা জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন মাটিতে! চারপাশে এমন তাণ্ডব আর উন্মাদনা দেখে খোদ ফারাহ খান এবং শাহরুখ খান হতবাক হয়ে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে থাকেন, “আরে, সেটের ভেতর এসব হচ্ছেটা কী!” মিঠুন চক্রবর্তীর এই জাদুকরী জনপ্রিয়তা দেখে মুগ্ধ ফারাহ সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন, মূল গানের ভিডিওতেও তিনি এই বাস্তব দৃশ্যের অনুকরণ রাখবেন। ঠিক সেই কারণেই গানের একটি দৃশ্যে এক মহিলাকে জ্ঞান হারাতে দেখা যায়!
শুটিংয়ের আরও এক মজার মুহূর্তের কথা তুলে ধরে ফারাহ জানান, তিনি শাহরুখকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মিঠুন যেভাবে নাচছেন, ঠিক সেই আইকনিক স্টেপগুলোই অনুকরণ করতে। কিন্তু স্বয়ং ‘কিং খান’ কিছুতেই ডিস্কো ড্যান্সারের সেই সিগনেচার ছন্দ মেলাতে পারছিলেন না। তখন মহাগুরু ভালোবেসে শাহরুখের মাথায় একটি হালকা ‘থাপ্পড়’ কষিয়ে স্টেপ বুঝিয়ে দেন। পরিচালক ফারাহ সেই বিরল ও মজার দৃশ্যটি কাট না করে মূল গানেই রেখে দেন, যা আজ পর্যন্ত কোটি কোটি দর্শক স্ক্রিনে দেখে আসছেন।
১৯৭৬ সালে মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ দিয়ে সিনেমা যাত্রা শুরু করেই প্রথম ছবিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। পরবর্তীতে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’, ‘ড্যান্স ড্যান্স’, ‘প্যায়ার ঝুকতা নেহি’র মতো একের পর এক অল-টাইম ব্লকবাস্টার উপহার দিয়ে গোটা দেশে ঝড় তোলেন তিনি। ৩টি জাতীয় পুরস্কার, ২০২৪ সালে ‘পদ্মভূষণ’ এবং ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে’ প্রাপ্ত এই কিংবদন্তি অভিনেতার জনপ্রিয়তা যে আজও অমলিন, ফারাহর শেয়ার করা এই গল্পটিই তার আরেক রুপোলি দলিল!