
বলিউডের ঝলমলে পর্দার আড়ালে এমন কিছু অন্ধকার অধ্যায় থাকে, যা অনেক সময়ই তারকাদের মানসিক ট্রমার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কাস্টিং কাউচের নোংরামি থেকে শুরু করে সহকর্মীদের অসংবেদনশীল আচরণ— গ্ল্যামার দুনিয়ার এই কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হতে হয় অনেককেই। বিশেষ করে ইন্ডাস্ট্রিতে যারা নতুন, এই মানসিক চাপ সামলানো তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা এই চেনা চিত্রের মাঝেও কিছু এমন ব্যক্তিত্ব থাকেন, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে ভয় পান না। তেমনই এক সাহসী কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন ভারতীয় সিনেমার চিরসবুজ অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়।
একেবারেই অল্প বয়সে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন মৌসুমী। ব্যক্তিগত জীবনেও মাত্র ১৬ বছর বয়সেই প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পুত্র জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন তিনি। মিষ্টি হাসি আর প্রাণবন্ত স্বভাবের জোরে খুব দ্রুতই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। এরপর আর তাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। উত্তম কুমার থেকে রঞ্জিত মল্লিক— বাংলার পর্দায় যেমন দাপিয়ে বেরিয়েছেন, তেমনই বলিউডে অমিতাভ বচ্চন, শশী কাপুরের মতো মহাতারকাদের পাশেও নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। কিন্তু এই হাসিখুশি ও ঠোঁটকাটা অভিনেত্রীকেও একবার সহকর্মীর চরম কুৎসিত মন্তব্যের শিকার হতে হয়েছিল, আর সেই মন্তব্যকারী ছিলেন খোদ ‘সুপারস্টার’ রাজেশ খান্না।
স্বভাবতই এই নোংরা উক্তিতে চরম অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন মৌসুমী। তবে মুখ বুজে সহ্য করার পাত্রী তিনি ছিলেন না। এক সাক্ষাৎকারে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, তখন তিনি প্রথম সন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন। শুটিং ফ্লোরে রাজেশ খান্নাকে নিজের মা হতে চলার সুখবরটি দিতেই ঘটে বিপত্তি। সবার সামনে আচমকাই রাজেশ এক অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ প্রশ্ন করে বসেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, মৌসুমীর গর্ভের সন্তানটি তার স্বামীর নাকি অভিনেতা বিনোদ মেহেরার?
আসলে সেই সময় বি-টাউনে বিনোদ মেহেরার সঙ্গে মৌসুমীর বন্ধুত্ব নিয়ে নানা মুখরোচক গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছিল। কিন্তু কাজের জায়গায় একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে এমন নোংরা আক্রমণের মুখে পড়তে হবে, তা হয়তো কেউই ভাবেননি। প্রচণ্ড রেগে গেলেও উপস্থিত বুদ্ধি হারাননি মৌসুমী। তিনি তখনই সপাটে রাজেশের মুখের ওপর পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “তা ডিম্পল কাপাডিয়ার সন্তান কি ঋষি কাপুরের?” উল্লেখ্য, সেই সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে ডিম্পল ও ঋষি কাপুরের সম্পর্ক নিয়েও একই রকম কানাঘুষো চলছিল।
রাজেশ খানকে তার নিজের ভাষাতেই উচিত শিক্ষা দিয়েছিলেন মৌসুমী। তবে সেই অপমানের ক্ষত তিনি ভোলেননি। ওই ঘটনার পর থেকে রাজেশ খান্নার সঙ্গে চিরকালের জন্য কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী, আর কখনো কোনো সিনেমায় তার সাথে স্ক্রিন শেয়ারও করেননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের এই সোজাসাপটা জবাব আজও বলিউডের অন্দরে এক অন্যতম সাহসী দৃষ্টান্ত হিসেবে মনে রাখা হয়।