Nana Patekar: প্রতি সপ্তাহেই পাক ক্রিকেটারকে ফোন করতেন নানা পাটেকর! কারণ জানলে অন্য এক নানাকে চিনবেন

Nana patekar secret Bond: একদিকে যখন কার্গিল যুদ্ধের সময় কেরিয়ারের ঝুঁকি নিয়ে দেশের হয়ে সেনা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন নানা, অন্যদিকে তেমনই তাঁর অদম্য ব্যক্তিত্ব ও অনবদ্য অভিনয় মুগ্ধ করেছিল পাক মুলুককেও। আর সেই কারণেই নানা পাটেকরের প্রয়াণসংবাদ নাড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের আমজনতা থেকে শুরু করে সেদেশের তারকাদেরও।

Nana Patekar: প্রতি সপ্তাহেই পাক ক্রিকেটারকে ফোন করতেন নানা পাটেকর! কারণ জানলে অন্য এক নানাকে চিনবেন

|

Oct 09, 2026 | 6:24 PM

শিল্প যে কোনও ভৌগোলিক সীমানা বা রাজনৈতিক কাঁটাতারের গণ্ডি মানে না, তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ৭৫ বছর বয়সে জীবনাবসান হয়েছে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা নানা পাটেকরের। তাঁর প্রয়াণে যেমন ভারতজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া, তেমনই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও তাঁর অনুরাগীদের মনে বাজছে বিষাদের সুর। একদিকে যখন কার্গিল যুদ্ধের সময় কেরিয়ারের ঝুঁকি নিয়ে দেশের হয়ে সেনা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন নানা, অন্যদিকে তেমনই তাঁর অদম্য ব্যক্তিত্ব ও অনবদ্য অভিনয় মুগ্ধ করেছিল পাক মুলুককেও। আর সেই কারণেই নানা পাটেকরের প্রয়াণসংবাদ নাড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের আমজনতা থেকে শুরু করে সেদেশের তারকাদেরও।

পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার বসিত আলির সঙ্গে নানা পাটেকরের সুসম্পর্কের কথা অনেকেরই অজানা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দুজনের মধ্যে এক গভীর পারিবারিক ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় ছিল। যে মানুষটি সিনেমার পর্দায় নিজের মারকাটারি ও ঝাঁঝালো সংলাপ দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার হয়েছেন—যেমন ‘ক্রান্তিবীর’ ছবির সেই বিখ্যাত ডায়লগ, “কৌন হিন্দু কা খুন হ্যায়, কৌন মুসলমান কা খুন হ্যায়?”—বাস্তব জীবনেও তিনি ছিলেন ঠিক তেমনই নির্ভীক ও সংবেদনশীল।

প্রিয় বন্ধুর প্রয়াণে এক ভিডিও বার্তায় কান্নায় ভেঙে পড়ে বসিত আলি বলেন, “নানা যেমন পর্দায় ছিলেন, বাস্তব জীবনেও ঠিক তেমনই খাঁটি মানুষ ছিলেন। আর সেই কারণেই আমাদের মধ্যে এত ভালো বোঝাপড়া ছিল। আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলতাম। আমার মা যখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, নানা নিয়মিত ফোন করে তাঁর খোঁজ নিতেন। এমনকী আমার মায়ের মৃত্যুর পর একজন বড় দাদার মতো যেভাবে উনি আমাকে সামলেছিলেন, তা ভোলা যায় না!”

বসিত আলি আরও স্মৃতিচারণ করে জানান, মায়ের প্রয়াণের সেই কঠিন সময়ে নানা পাটেকর তাঁকে নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার কথা বলেছিলেন। এক অভিভাবকের মতো তিনি যেভাবে ভালোবাসায় আগলে রেখেছিলেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। নানার সঙ্গে বিভিন্ন খুনসুটি ও আড্ডার কথা বলতে গিয়ে বসিত জানান, “ওঁর সঙ্গে অনেক ঠাট্টাতামশাও করতাম। আমি ‘তরুণ’ বলে ডাকলে উনি বলতেন, ওসব বাদ দে, তুই যেমন বুড়ো হচ্ছিস, আমিও তো তেমনই বয়স্ক হচ্ছি! আমি আজ স্পষ্ট করে বলতে চাই— ভারতে যেমন নানাজির অগণিত ভক্ত ছিল, পাকিস্তানেও ঠিক তেমনই তাঁর ভক্তের সংখ্যা কম নয়। পাকিস্তানের মানুষ নানা পাটেকরকে ভীষণ ভালোবাসে।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us