
বলিউডের সবথেকে চর্চিত এবং ভালোবাসার জুটি ছিলেন ঋষি কাপুর ও নীতু কাপুর। কিন্তু ২০২০ সালে ঋষির প্রস্থান নীতুর জীবনে নিয়ে এসেছিল এক গভীর শূন্যতা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অন্ধকার দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিলেন বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী। জানালেন, স্বামীর মৃত্যুর শোক সামলাতে একটা সময় তিনি মদ্যপানের আশ্রয় নিয়েছিলেন।
নীতু কাপুরের কথায়, ঋষির চলে যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন। সেই অসহ্য একাকীত্ব এবং মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো শুরু করেন। অভিনেত্রী অকপটে স্বীকার করেন, “আগে সেভাবে অভ্যাস না থাকলেও, ঋষির মৃত্যুর পর আমি মদ্যপান শুরু করেছিলাম। ওই কঠিন সময়টা পার করার জন্য নিজেকে কোনো না কোনোভাবে ব্যস্ত রাখাটা জরুরি ছিল।”
স্বামীর মৃত্যুর পর নীতুর দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে বেরোনো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কম সমালোচনা হয়নি। অনেকেই তাঁকে নিষ্ঠুর বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এই বিষয়ে নিজের নীরবতা ভেঙে নীতু বলেন, “লোকে বলে স্বামীর মৃত্যুর পর এত তাড়াতাড়ি জীবন উপভোগ করছি কেন! কিন্তু তারা বোঝে না যে, প্রত্যেকে নিজের মতো করে শোক সামলায়। আমি নিজেকে ঘরের কোণে বন্দি করে কান্নাকাটি করতে চাইনি।”
নীতু জানান, তাঁর এই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন ছেলে রণবীর কাপুর এবং মেয়ে ঋদ্ধিমা। তাঁদের উৎসাহেই তিনি আবার রুপোলি পর্দায় কাজ শুরু করেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর ‘জুগ জুগ জিও’-র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০২০ সালে না ফেরার দেশে চলে যান ঋষি কাপুর। নীতুর এই সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার প্রমাণ করে দিল যে, গ্ল্যামার দুনিয়ার উজ্জ্বল আলোর নিচেও লুকিয়ে থাকে গভীর একাকীত্ব, যা জয় করতে হিমশিম খেতে হয় মহাতারকাদেরও।