
মুম্বইয়ের দুর্গাপুজো মানেই যার নাম সবার আগে মাথায় আসে, তা হল কাজল ও রানি মুখোপাধ্য়ায়ের পরিবারের নর্থ বোম্বে সর্বজনীন দুর্গোৎসব। চলতি বছর ২০২৬ সালে এই ঐতিহ্যবাহী পুজোটি ৮০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। ১৯৪৮ সালে পদ্মশ্রী শশধর মুখোপাধ্যায়, তাঁর স্ত্রী সতীরানি মুখোপাধ্যায়, জে. এম. ভদ্র এবং কমিটির অন্যান্য প্রতিষ্ঠাতাদের হাত ধরে সান্তাক্রুজের একটি ছোট প্রতিবেশী উৎসব হিসেবে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা মুম্বইয়ের অন্যতম সেরা ও জমজমাট দুর্গাপুজোয় রূপ নিয়েছে। যেখানে সাধারণ ভক্তদের পাশাপাশি ভিড় জমান বলিউড তাবড় তারকারাও।
বম্বে টকিজ ও ফিল্মিস্তান স্টুডিওর সঙ্গে যুক্ত প্রখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক শশধর মুখার্জি এই পুজোর পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে তোলার নেপথ্যে ছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পুজোর পরিচালনার দায়িত্ব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এগিয়ে চলেছে, যার নেতৃত্বে পরবর্তীতে যুক্ত ছিলেন রাম মুখোপাধ্যায়, দেব মুখোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্টজনেরা।
চলতি বছরের পুজোর অন্যতম বড় আকর্ষণ হল এর প্যান্ডেল বা মণ্ডপ সজ্জা। এবছর কেরলের বিখ্যাত গুরুভায়ুর মন্দিরের স্থাপত্যের অনুপ্রেরণায় তৈরি হয়েছে এবারের মণ্ডপ, যা দর্শকদের জন্য এক অনন্য ও সুদৃশ্য পরিবেশ তৈরি করেছে। প্রতিবারের মতো এবারও কলকাতার বিশিষ্ট শিল্পী অমিত পাল ও তাঁর টিম তৈরি করেছেন দুর্গা প্রতিমা। প্রায় ১৭ ফুট উচ্চতার এই প্রতিমা মুম্বইয়ে প্রদর্শিত হওয়া অন্যতম বৃহৎ ও আকর্ষণীয় দুর্গা প্রতিমাগুলির মধ্যে একটি। দেবীর গায়ে রয়েছে সোনার গয়নাও।
গত ১৫ অক্টোবর মহাসমারোহে এই ৮০তম সংস্করণের উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে উপস্থিত ছিলেন কাজল, তাঁর মা তথা প্রবীণ অভিনেত্রী তনুজা এবং বোন তনিশা। এছাড়াও পরিবারের অন্য সদস্য ও বিশিষ্টজনেদের মধ্যে পরিচালক অয়ন মুখোপাধ্য়ায় এবং অভিনেত্রী শরবানি এই জমজমাট উদযাপনের অংশ হয়ে ওঠেন।
উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে কাজল সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু সুন্দর মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেন। তিনি ক্যাপশনে লেখেন, আজকের দিনটি মা-কে তাঁর সমস্ত রূপেই উপলব্ধি করার—মা হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, রক্ষাকর্তা ও দেবী হিসেবে।
কেবলমাত্র প্রথাগত বিনোদন জগতের ইভেন্ট নয়, বরং এই পুজো ভক্তদের সুযোগ করে দেয় তাঁদের প্রিয় তারকাদের খুব কাছ থেকে সাধারণ মানুষের মতো পুজোর চেনা আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখার। প্রতিমা উন্মোচন থেকে শুরু করে ঢাকের তালে নাচ কিংবা সিঁদুর খেলা—সবকিছুর মাধ্যমেই তারকা উপস্থিতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্র হয়ে ওঠে এই নর্থ বোম্বে সর্বজনীন দুর্গোৎসব।