
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে রাঘব চাড্ডা এবং পরিণীতি চোপড়ার কোল আলো করে এসেছে পুত্রসন্তান ‘নীর’। মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণের পর এবার কাজে ফিরেছেন বলিউড অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন, সন্তান জন্ম দেওয়ার শারীরিক ও মানসিক ধকল, এবং নতুন মা হিসেবে পেশাগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন তিনি।
পরিণীতি জানান, অনেকেই মনে করেন গর্ভাবস্থা কেটে গিয়ে সন্তানের জন্ম হয়ে গেলেই বুঝি সবচেয়ে কঠিন পর্বটি শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তাঁর মতে, সন্তান প্রসবের পরেও একজন মায়ের চিকিৎসা, মানসিক যত্ন এবং একটি শক্তিশালী সাপোর্ট সিস্টেমের প্রয়োজন হয়। অভিনেত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, প্রসবোত্তর যত্ন নিয়ে সমাজে সেভাবে আলোচনাই হয় না। সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেই মহিলারা রাতারাতি “আগের অবস্থায় ফিরে যাবেন”, এমনটা আশা করা একেবারেই উচিত নয়।
তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত, কিছু মানুষ ‘ডিপ্রেশন’ বা বিষণ্ণতা শব্দটির অপব্যবহার করেন। তাঁরা ভাবেন, ‘ওহ, ও হয়তো একটু মন খারাপ করে আছে’। কিন্তু সেই সময় একজন সদ্য মা হওয়া নারীকে যন্ত্রণাদায়ক প্রসব, শারীরিক সুস্থতার কঠিন লড়াই, হরমোনের ওঠানামা এবং মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সে একটি শিশুকে স্তন্যপান করায় এবং একটি জলজ্যান্ত মানুষের যত্ন নেয়। এটি শুধুমাত্র শিশুর যত্ন নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কখনও কখনও শিশুর যত্ন নেওয়াটা সহজ মনে হয়, কিন্তু সেই সময় একজন নারী তার চেয়েও অনেক বেশি কিছুর মধ্যে দিয়ে যান।”
মাতৃত্বকে ‘একসঙ্গে ১০টি চাকরি’ করার সঙ্গে তুলনা করে পরিণীতি বলেন, সন্তানের যত্ন নেওয়া একটি ফুল-টাইম দায়িত্ব। প্রসবের পর প্রথম কয়েক মাস পারিপার্শ্বিক সমর্থনের গুরুত্ব সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সঠিক মানুষজন পাশে থাকলে একজন নারী সবকিছু সামলে নিতে পারেন।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা যদি মাকে সমর্থন করতে পারি, তবে আমি সমস্ত মহিলাদের হয়ে বলতে পারি, তাঁরা সব কিছু করতে পারেন। কিন্তু প্রসবের পর প্রথম কয়েক মাস যদি তিনি সেই সাপোর্ট না পান, তবে তিনি ভেঙে পড়েন। আর মা ভেঙে পড়লে— সন্তান, পরিবার এবং পুরো সংসার ভেঙে পড়ে। এটি কখনওই সহজ নয়, আর সেই কারণেই আপনাকে এমন জীবন এবং রুটিন বেছে নিতে হয় যা আপনার জন্য উপযুক্ত।”
পরিণীতি এবং রাঘব গত ১৯ অক্টোবর, ২০২৫-এ তাঁদের পুত্রসন্তান নীরকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই দম্পতি ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে এই সুখবর জানিয়েছিলেন। তাঁরা লিখেছিলেন, “অবশেষে সে এসেছে! আমাদের পুত্রসন্তান! ওর আসার আগের জীবন আমরা আক্ষরিক অর্থেই মনে করতে পারছি না! আমাদের হাত এখন ভরতি, আর হৃদয় কানায় কানায় পূর্ণ। প্রথমে আমরা একে অপরকে পেয়েছিলাম; এখন, আমাদের কাছে সবকিছু আছে।” মা হওয়ার পর সম্প্রতি পরিণীতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলও লঞ্চ করেছেন।