লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে দুরত্ব! কেন গর্ভবতী অবস্থায় শ্বশুরবাড়ি ছাড়তে হয়েছিল আশা ভোঁসলেকে?

আশার কথায়, সেই সংসারে কেবল অবহেলা নয়, জুটেছিল শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও। তাঁর স্বামী চাইতেন না দিদি লতার সঙ্গে আশার কোনও যোগাযোগ থাকুক। পরিস্থিতি চরমে ওঠে যখন তিনি তাঁর তৃতীয় সন্তান আনন্দের জন্ম দিতে চলেছেন। সেই যন্ত্রণার দিনগুলোর কথা মনে করে আশা বলেছিলেন, "সেখানে মারধর ও অমানবিক অত্যাচার চলত। অবশেষে আমার ছোট ছেলে আনন্দের জন্মের সময় আমাকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল।"

লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে দুরত্ব! কেন গর্ভবতী অবস্থায় শ্বশুরবাড়ি ছাড়তে হয়েছিল আশা ভোঁসলেকে?
কেন লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে দুরত্ব বাড়ে?

Apr 12, 2026 | 12:59 PM

প্রয়াত আশা ভোঁসলে। ৯২ বছর বয়সেও যাঁর গলায় ছিল তারুণ্যের তেজ, বুকে সংক্রমণ আর অসুস্থতা নিয়ে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। গায়িকার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বিগ্ন গোটা দেশ। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। কিন্তু এই কিংবদন্তি গায়িকার জীবনের উজ্জ্বল আলোর আড়ালে যে কতটা অন্ধকার ছিল, তা জানলে আজও বুক কেঁপে ওঠে।

আশার জীবন মানেই শুধু গান নয়, এ এক কঠিন যুদ্ধের গল্প। মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রেমে পড়েন। তাঁর চেয়ে ২০ বছরের বড় গণপতারাও ভোঁসলেকে বিয়ে করার জেদ ধরেছিলেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত তাঁর পরিবারে বড় ফাটল ধরিয়েছিল। আশা নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম, আর তাই লতা দিদি আমার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেননি। তিনি এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি।” আবার অপর দিকে রক্ষণশীল শ্বশুরবাড়িতে একজন গায়িকা পুত্রবধূকে কেউ সম্মান দেয়নি।

 

আশার কথায়, সেই সংসারে কেবল অবহেলা নয়, জুটেছিল শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও। তাঁর স্বামী চাইতেন না দিদি লতার সঙ্গে আশার কোনও যোগাযোগ থাকুক। পরিস্থিতি চরমে ওঠে যখন তিনি তাঁর তৃতীয় সন্তান আনন্দের জন্ম দিতে চলেছেন। সেই যন্ত্রণার দিনগুলোর কথা মনে করে আশা বলেছিলেন, “সেখানে মারধর ও অমানবিক অত্যাচার চলত। অবশেষে আমার ছোট ছেলে আনন্দের জন্মের সময় আমাকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল।” অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সন্তানদের নিয়ে মায়ের কাছে ফিরে এসেছিলেন তিনি।

এত কষ্টের পরও কারও প্রতি কোনও ক্ষোভ রাখেননি আশা। তিনি মনে করেন, সেই বিয়ে না হলে তিনি তাঁর তিন সন্তানকে পেতেন না। পরবর্তীতে রাহুল দেব বর্মনের (আরডি বর্মন) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হলেও মনের মধ্যে সেই প্রথম জীবনের ক্ষত সারাজীবন বয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। ১৯৮০ সালে তাঁদের বিয়ে হলেও জীবনযাত্রার পার্থক্যের কারণে তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন, যদিও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল অটুট।

হাসপাতাল থেকে নাতনি জানাই ভোঁসলে জানিয়েছেন, আপাতত পর্যবেক্ষণে রয়েছেন গায়িকা। ৯০ বছর বয়সেও দুবাইতে তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে লাইভ কনসার্ট করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কনসার্টের আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “নিঃশ্বাস বন্ধ হলে মানুষ মারা যায়। আমার কাছে গানই হলো আমার নিঃশ্বাস।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us