
টেলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্ররোচনায় আত্মহত্যা মামলায় এক বড়সড় আইনি সিদ্ধান্ত শোনাল বোম্বে হাইকোর্ট। বুধবার প্রখ্যাত এই অভিনেত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ থেকে তাঁর তৎকালীন প্রেমিক তথা অভিনেতা-প্রযোজক রাহুল রাজ সিংকে সম্পূর্ণ বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছে আদালত।
২০১৬ সালের ১ এপ্রিল মুম্বইয়ের গোরেগাঁও পশ্চিমের ভাড়া বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল ‘বালিকা বধূ’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ। এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল গোটা বিনোদন জগৎ। ঘটনার পরেই প্রত্যুষার পরিবার এবং পুলিশের তরফ থেকে আত্মহত্যার প্ররোচনা, শারীরিক নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয় রাহুলের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২ জুলাই বোম্বে হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পান রাহুল। ২০১৮ সালের এপ্রিলে বাঙ্গুর নগর থানা চার্জশিট জমা দিলে, ২০২৩ সালের অগস্টে দিনদোশী দায়রা আদালতে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন রাহুল। তবে সেই সময় আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
দীর্ঘ শুনানি শেষে বোম্বে হাইকোর্টের একক বিচারপতি শিবকুমার জি ডিগের এজলাসে মামলাটির নিষ্পত্তি ঘটে। শুনানিতে বিচারক ১ এপ্রিল ২০১৬-এ প্রত্যুষার মৃত্যুর ঠিক মুখে রাহুল ও তাঁর শেষ ফোনালাপের অডিও রেকর্ডিংকে অন্যতম প্রধান তথ্যপ্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, সেই ফোনালাপে স্পষ্ট ছিল যে রাহুল প্রত্যুষাকে কোনও চরম পদক্ষেপ নেওয়া থেকে থামানোর সবরকম চেষ্টা করছিলেন। এমনকি তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যুষার কাছে ফিরে আসছেন বলেও ফোনালাপে জানান।
পাশাপাশি, সেই শেষ কথোপকথনে প্রত্যুষা তাঁর মানসিক অবসাদ ও কষ্টের জন্য নিজের মা-বাবাসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন। রাহুলের আইনজীবী আবাদ পোন্ডা এবং শ্রেয়াংশ মিথারে আদালতে যুক্তি দেন যে, এই কথোপকথন কোনওভাবেই রাহুলের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অপরাধ প্রমাণ করে না; বরং প্রত্যুষার মানসিক অবস্থার জন্য অন্যান্য পারিপার্শ্বিক কারণ ও পারিবারিক চাপ দায়ী ছিল। এ ছাড়া ঘটনার পর কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি বলেও জোর সওয়াল করেন তাঁরা।
উভয় পক্ষের সওয়াল জবাব শেষে বোম্বে হাইকোর্ট রাহুলের পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করে এবং তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। আদালত জানিয়েছে, এই আদেশের পূর্ণাঙ্গ কপি পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।