
তিন প্রজন্ম ধরে টলিপাড়ার সেনশেসন সেন বাড়ির অভিনেত্রীরা। মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের ঐতিহ্য এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন রাইমা সেন। বলিউড থেকে টলিউডে অভিনয় করে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। যদিও নিন্দুকরা বলেন নেপো কিড। পরিচালক নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আগামী ছবিতেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে রাইমাকে। উইন্ডোজ প্রযোজক সংস্থা ২৫ বছরে পা রাখল। তাঁদের ছবি ‘ ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড ‘ ছবিতে কাজ করেছেন নায়িকা। সম্প্রতি টিভিনাইন বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাইমার কথায় উঠে এল নেপোটিজম প্রসঙ্গ।
প্রথমেই রাইমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নেপোকিড বলা হয় আপনাকে, তবে উইন্ডোজে কাজ পেতে ২৫ বছর লেগে গেল? উত্তরে রাইমা বললেন, হ্যাঁ আমি বলেও ছিলাম শিবপ্রসাদকে, আমার জন্য যুতসই চরিত্র পেতে সময় লাগল। ঠিক আছে , আমি ওদের সঙ্গে কাজ করতে চাইছিলাম। আর নেপোটিজম নিয়ে বলতে পারি,
আমার ঠাকুমা, মা, বহু বছর ধরে নিজের দক্ষতায় একটা ঐতিহ্য তৈরি করেছেন। খুব স্বাভাবিক আমরা অভিনয়ে আসব। ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারদের বাচ্চাদের তো এই রকম কিছু বলা হয় না। আমাদের একটা ট্যাগ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও আমি মনে করি লিগাসি ধরে রাখা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ। নতুন কোনও অভিনেত্রীদের কেউ তুলনা করে না। তবে আমরা কিছু করলেই আমার ঠাকুমার কাজের সঙ্গে তুলনা হবে। খারাপ করলে বলবে সুচিত্রা সেনের নাতনি কাজ পারেনি। এটা অনেক বেশি চাপের আমাদের জন্য।”
নেপোটিজম নিয়ে কথা হয় তবে বাংলায় ফেভারিটিজমও কম হয়না। এই বিষয়ে রাইমা বলেন, ” আমি আগে অনেক কাজ করতাম বাংলায়, ছবি হিট হলে আরও ছবির অফার আসত। তবে লাস্ট পাঁচ সাত বছরে এখানে কাজ কমে গিয়েছে, শুনতে পাই দর্শক বাংলা ছবি দেখতে হলে যায় না। আসলে খুব কম সংখ্যক মানুষ হাতে গোনা কিছু শিল্পীরা নিজেদের মধ্যেই কাজ করেন। নিজেদের পরিচিত বৃত্তেই কাজ করেন। বাইরের কেউ তেমন সুযোগ পায় না। আর সেই সব পরিচালকরা কোথায়? হয় দুবছর একটা ছবি করে, ডি নতুন পরিচালকরা কাজ করছে। অনেকে সিরিজ করতে চলে গিয়েছে।”
টলিপাড়ায় বলিউডের মত নেপোটিজম নেই বললেই চলে, কাজে দক্ষ হলে তবেই সে টিকে থাকতে পারে বলেই মনে করেন অভিনেত্রী। যদিও তিনি ফেভারিটিজম অনেক বেশি হয় বাংলা ছবিতে। নিজেদের বৃত্তের মধ্যেই কাজ করা অনেক বেড়ে গিয়েছে বর্তমানে।