
ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যে কজন অভিনেত্রী তাঁদের অভিনয়দক্ষতা ও স্বভাবসিদ্ধ সংবেদনশীলতা দিয়ে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম স্মিতা পাটিল। প্রখ্যাত এই অভিনেত্রীর ৭১তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণে ও শ্রদ্ধায় ভাসালেন বিশিষ্ট রাজ বব্বর। শনিবার সমাজমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে স্মিতার অনবদ্য অভিনয়প্রতিভা, সততা ও ভারতীয় সিনেমায় তাঁর অমর অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।
ইনস্টাগ্রামে স্মিতার একটি পুরনো ছবি পোস্ট করে রাজ বব্বর স্মরণ করেন তাঁর প্রতিভার সেই বিশেষ দিকটি। তিনি লেখেন, “স্মিতার মধ্যে ছিল এক বিরল ও গভীর সংবেদনশীলতা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ওর জীবনের পরিধি খুব ছোট হলেও, সৃষ্টির জগতে সে এমন এক ছাপ রেখে গিয়েছে যা কখনও ম্লান হওয়ার নয়। স্মিতা যেকোনও চরিত্রে কেবল মুখ দেখাত না, বরং নিজের প্রাণ ঢেলে সেই চরিত্রগুলোকে দর্শকের সামনে সজীব করে তুলত। আজও ওর অভাব ভীষণভাবে অনুভব করি—ওর সারল্য, অপরসীম প্রতিভা এবং সেই বিশেষ গুণগুলো যা ওকে সবার থেকে আলাদা করেছিল, সবই স্মৃতির ফ্রেমে অমলিন।”
স্মিতার কালজয়ী সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে রাজ আরও লেখেন, “এই বিশেষ দিনে ওকে শ্রদ্ধা জানাই। ওর কাজ আজও নতুন প্রজন্মকে কাজের অনুপ্রেরণা জোগায়, আবেগপ্রবণ করে তোলে। শিল্পীদের যখন ডাক আসে, তাঁরা এই নশ্বর জগত ছেড়ে চলে যান ঠিকই, কিন্তু স্মিতা যাঁদের ভালোবাসা পেয়েছিল, তাঁদের হৃদয়ে চিরদিনের জন্য নিজের উপস্থিতি খোদাই করে দিয়ে গিয়েছে।”
স্মিতা পাটিল ও রাজ বব্বরের রসায়নের সূচনা হয়েছিল ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভিগি পলকে’ ছবির সেটে। সেখান থেকেই শুরু এক নতুন অধ্যায়ের। পরবর্তীকালে ১৯৮৬ সালের ২৮ নভেম্বর তাঁদের কোল আলো করে আসে সন্তান প্রতীক বব্বর। তবে পিতৃত্বের আনন্দের মাঝেই নেমে আসে এক ঘোর অন্ধকার। পুত্রসন্তানের জন্মের পর শারীরিক জটিলতার কারণে ওই বছরেরই ১৩ ডিসেম্বর মাত্র ৩১ বছর বয়সে অকালে প্রয়াণ ঘটে কালজয়ী এই অভিনেত্রীর। মায়ের প্রয়াণের পর মুম্বইতে দাদু-দিদার স্নেহে বড় হয়ে ওঠেন প্রতীক, যিনি আজ বিনোদন জগতে নিজে একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা।
স্মিতা পাটিলের মৃত্যুর পর বেশ কিছু ছবি মুক্তি পেলেও তাঁর কাজ শেষ করা অন্যতম চর্চিত সিনেমা ছিল ‘গলিয়োঁ কা বাদশা’। ছবিটির কাজ আগেই শেষ হয়েছিল, তবে পর্দায় আসে অভিনেত্রীর মৃত্যুর পর। অন্যদিকে, রাজ বব্বরকে দর্শকেরা সম্প্রতি পর্দায় দেখেছেন ২০২৪ সালের চিন্ময় পুরোহিত পরিচালিত ‘এক কোরি প্রেম কথা’ ছবিতে, যেখানে তাঁর পাশাপাশি অভিনয় করেছিলেন অক্ষয় ওবেরয় ও পুনম ঢিলোঁ।