Rajinikanth: ‘আমি তো বাস কন্ডাক্টর!’ আচমকা কোন কথা বলে ফেললেন রজনীকান্ত?

Rajinikanth Bus Conductor: ১৫ অক্টোবর মুক্তি পেতে চলেছে নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘জেলর ২’। ছবির মুক্তির ঠিক আগে এক জমজমাট ‘সুপার শো’-এর আয়োজন করেছিলেন নির্মাতারা। সেখানেই রজনীকান্তের স্বভাবসুলভ বিনয় ও তার পেছনের রহস্য নিয়ে খোলামেলা আড্ডা দেন পরিচালক ও অভিনেতা।

Rajinikanth: আমি তো বাস কন্ডাক্টর! আচমকা কোন কথা বলে ফেললেন রজনীকান্ত?

|

Oct 12, 2026 | 7:29 PM

পর্দার একচ্ছত্র অধিপতি তিনি, যাঁর এক ইশারায় প্রেক্ষাগৃহে ঝড় ওঠে। অথচ কোটি কোটি ভক্তের ভালোবাসায় সিক্ত এই সুপারস্টার আজও নিজেকে সাধারণ এক বাস কন্ডাক্টর হিসেবেই দেখতে ভালোবাসেন। পরিচালক নেলসন দিলীপকুমারের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের অতীতের সেই দিনগুলোকে স্মরণ করে এমনটাই জানালেন ভারতীয় সিনেমার জীবন্ত কিংবদন্তি রজনীকান্ত।

১৫ অক্টোবর মুক্তি পেতে চলেছে নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘জেলর ২’। ছবির মুক্তির ঠিক আগে এক জমজমাট ‘সুপার শো’-এর আয়োজন করেছিলেন নির্মাতারা। সেখানেই রজনীকান্তের স্বভাবসুলভ বিনয় ও তার পেছনের রহস্য নিয়ে খোলামেলা আড্ডা দেন পরিচালক ও অভিনেতা।

অনুষ্ঠানে পরিচালক নেলসন রজনীকান্তকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, তাঁর এই বিনয় কি পুরোটাই সহজাত, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও ভাবনা রয়েছে? উত্তরে বিনীত হাসিমুখে রজনীকান্ত বলেন, “দেখুন, আমি অভিনেতা হিসেবে অভিনয় করতে ভালোবাসি ঠিকই, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ভালো লাগত বাস কন্ডাক্টরের কাজ করতে। জীবনের দীর্ঘ পাঁচ বছর আমি বেঙ্গালুরুতে বাস কন্ডাক্টরের চাকরি করেছি। আজও সেই দিনগুলোর কথা ভীষণ মনে পড়ে। নিজেকে কখনও কোনও বড় তারকা বলে ভাবতে পারিনি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই স্টারডম, যশ, খ্যাতি— সব ঠিক আছে। কিন্তু সত্যি বলতে, নিজেকে একজন কন্ডাক্টর ভাবতেই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। সেই কারণেই তো আমি আজও সুযোগ পেলে বেঙ্গালুরুতে ছুটে যাই। কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করার সময় নানা ধরনের সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হতে হয়, তাদের সঙ্গে মিশতে হয়। আমি আজও নিজেকে সেই বাস কন্ডাক্টর হিসেবেই দেখি। তাই আমার মতো একসময়ের সাধারণ কন্ডাক্টর আপনার মতো বড় ব্যক্তিত্বের সামনে অন্যরকম আচরণ করবেই বা কেন?”

রজনীকান্তের এই নিরহংকার উত্তর শুনে অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত সবাই হেসে ফেলেন এবং হাততালি দিয়ে তাঁকে সম্মান জানান। নেলসন হাসতে হাসতে বলেন, “স্যার, আমি আগে থেকেই জানতাম আপনি ঠিক এই কথাটাই বলবেন।”

বেঙ্গালুরুর এক সাধারণ মারাঠি পরিবারে জন্ম নেওয়া রজনীকান্তের জীবন শুরু থেকেই সহজ ছিল না। শৈশবে রামকৃষ্ণ মঠে বেদশিক্ষার সূত্রে তাঁর মনে আধ্যাত্মিকতার বীজ রোপিত হয়েছিল। মঠের বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করতে করতেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর সুপ্ত ভালোবাসা জন্ম নেয়।

এরপর জীবিকা নির্বাহের জন্য বহু সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁকে। কুলি থেকে শুরু করে বাস কন্ডাক্টরের চাকরি— দিন চালানোর তাগিদে নানা ধরনের পরিশ্রমের কাজ করেছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ভাগ্যের চাকা ঘোরে যখন তিনি মাদ্রাজ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পান। কিংবদন্তি পরিচালক কে বালচন্দ্রের জাদুকরী দৃষ্টি পড়ার পরই বদলে যায় তাঁর জীবনের গতিপথ। দক্ষিণী সিনেমায় নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করতে নিষ্ঠার সঙ্গে তামিল ভাষাও রপ্ত করেছিলেন তিনি। এরপরের ইতিহাস তো শুধুই সোনালী সাফল্যের রূপকথা।

লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের আলো থেকে দূরে গিয়ে আজও নিজের ফেলে আসা অতীত ও শেকড়কে বুকে আগলে রাখার এই বিরল মানসিকতাই রজনীকান্তকে অন্য সব তারকার চেয়ে আলাদা করে তোলে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us