
প্যান-ইন্ডিয়া ছবি ‘রামায়ণ’ (Ramayana) নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে তুঙ্গে চর্চা। রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও যশ অভিনীত এই মেগাবাজেট পৌরাণিক ছবি চলতি বছরের নভেম্বর মাসের ৪ তারিখে মুক্তি পাওয়ার কথা। ইতিমধ্যেই এই ছবিকে বাংলায় করমুক্ত ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার কালীপুজোর টলিউডের তরফ থেকে বক্স অফিসে মুক্তি পেতে চলেছে ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’। সায়ন্তন ঘোষাল পরিচালিত ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ ছবিতে নামভূমিকায় অভিনয় করছেন অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরী। মা তারার চরিত্রে দেখা যাবে পায়েল দে-কে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে থাকছেন সাহেব চট্টোপাধ্যায়। ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত এবং সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে রয়েছেন সৌমিক হালদার। এসভিএফ (SVF)-এর প্রযোজনায় তৈরি এই ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে প্রবল কৌতূহল রয়েছে। সম্প্রতি টলিউডের উন্নয়ন ও সিনেমাশিল্পে লগ্নি নিয়ে নানা আলোচনা চললেও, ‘রামায়ণ’-এর মতো বড় ছবি যদি করমুক্ত হয়, তবে বাংলার মাটির কাছাকাছি থাকা ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’-র মতো আধ্যাত্মিক ও আবেগঘন ছবির ক্ষেত্রেও সরকারের এমন পদক্ষেপ করা উচিত বলে মনে করছেন ছবির নির্মাতারা। শোনা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ ছবিকেও করমুক্ত করার আবেদন করবে ছবির টিম।
এই প্রসঙ্গে জানতে টিভি নাইন বাংলার তরফে যোগাযোগ করা হয়, ছবির ‘বামাক্ষ্যাপা’ ওরফে অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি জানান, “এন্টারটেইনমেন্ট ট্যাক্স ফ্রি করার একটাই উদ্দেশ্য— টিকিটের দাম কিছুটা কমলে ছবিটা সাধারণ মানুষের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছাতে পারে। সাধক বামাক্ষ্যাপার ভক্তকুল তো শুধু শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রচুর মানুষ আছেন যাঁরা গ্রামাঞ্চলে, শহরতলিতে থাকেন। তাঁদের যদি এতে সুবিধা হয়, তাহলে অবশ্যই করমুক্ত করে দেওয়া উচিত। তাহলে আরও বহু মানুষের কাছে ছবিটা পৌঁছবে। তবে নির্মাতারা কীভাবে এই বিষয়ে, কী পদক্ষেপ করছে, তা আমার জানা নেই। তবে শুনেছি এটা নিয়ে আলোচনা চলছে।”
বাঙালির শেকড়ের টান এবং আধ্যাত্মিক আবেগের কথা বলতে গিয়ে সব্যসাচী আরও উল্লেখ করেন, আজও তারাপীঠে ভোর চারটে থেকে হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। সেই ভক্তদের কাছে ছবিটা পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের মূল দায়িত্ব।
বলিউডের বিশাল বাজেটের ছবির সঙ্গে বাংলার আঞ্চলিক ছবির হলের দখল বা সংঘর্ষ নিয়ে চিরন্তন বিতর্ক প্রসঙ্গে সব্যসাচীর পরিষ্কার বক্তব্য, “ইংরেজিতে একটা কথা আছে, যার অর্থ দাঁড়ায়— পর্বত বিশাল হলেও নদী নিজের মতো পথ করে নেয়। এটা নতুন কিছু নয়, আগেও বহুবার হয়েছে। খামোখা এটা নিয়ে আবেগ তাড়িত হতে চাই না বা গ্রাউন্ড তৈরি করার কোনও মানে হয় না। আমাদের কর্তব্য ভালো কাজ করা, আর দর্শক এখন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ। তাঁরা যদি মনে করেন কাজটি ভালো, তবে হাজার বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও তাঁরা হলে গিয়ে দেখবেন।”
এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে টিভি নাইন বাংলাকে পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল জানান, “‘রামায়ণ’ আমাদের সকলের গল্প, আমাদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের একটা বড় অংশ। আর ‘সাধক বামাখ্যাপা’ও তো আমাদেরই গল্প। বাংলার মাটির সঙ্গে, আমাদের বিশ্বাসের সঙ্গে, আমাদের শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক অসাধারণ মানুষের জীবনকাহিনি। দুটো ছবিকে একে অপরের প্রতিযোগী হিসেবে দেখার কোনও কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। বরং দুটো ছবিই আমাদের নিজেদের ইতিহাস, বিশ্বাস আর সংস্কৃতিকে বড় পর্দায় উদযাপন করার সুযোগ করে দিচ্ছে। আমরা যখন ‘সাধক বামাখ্যাপা’ তৈরি করছি, তখন শুধু বক্স অফিসের কথা ভেবে তো ছবিটা করছি না। বামদেবের জীবন, তাঁর সময়, তাঁর সাধনা, মা তারার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক—এই সবকিছুই আজকের প্রজন্মের কাছে নতুন করে তুলে ধরার একটা ইচ্ছে আমাদের রয়েছে। বাংলার এমন একজন সিদ্ধসাধকের জীবন নিয়ে ছবি তৈরি হচ্ছে, এটা আমাদের কাছে একটা আবেগের জায়গাও। আর করছাড়ের প্রসঙ্গে আমার মনে হয়, বিষয়টা শুধু প্রযোজকের ব্যবসায়িক সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কর কমলে বা মকুব হলে প্রযোজক অবশ্যই কিছুটা স্বস্তি পাবেন। কিন্তু সেই সুবিধা যদি টিকিটের দামেও প্রতিফলিত হয়, তাহলে সাধারণ দর্শকও সরাসরি উপকৃত হবেন। আমাদের তো শুধু কলকাতার দর্শকের কথা ভাবলে চলবে না। বাংলার জেলায় জেলায়, ছোট শহরে, মফস্সলে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের কাছে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়ার খরচটাও একটা বড় ব্যাপার। আমি চাই, বাংলার যত বেশি সম্ভব মানুষ হলে এসে বামাখ্যাপার জীবনটা দেখুন, তাঁর সম্পর্কে জানুন। এই ছবিটা যেন শুধু শহরের দর্শকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। করছাড় যদি সেই সুযোগটা আরও একটু বাড়িয়ে দেয়, তাহলে সেটা বাংলা সিনেমা এবং বাংলার দর্শক—দু’পক্ষের জন্যই খুব ভাল একটা উদ্যোগ হবে। শেষ পর্যন্ত ‘রামায়ণ’ হোক বা ‘সাধক বামাখ্যাপা’, দুটোই তো আমাদের নিজেদের গল্প। এই গল্পগুলো যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছবে, ততই ভাল।”