
একদিকে পর্দার আইকনিক হিরো মুকেশ খান্না (Mukesh Khanna), অন্যদিকে বলিউডের এনার্জি বম্ব রণবীর সিং (Ranveer Singh)। ভারতের প্রথম সুপারহিরো ‘শক্তিমান’-এর বড় পর্দায় ফেরা নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছে বহুদিন ধরেই। রণবীর সিংকে শক্তিমান হিসেবে মেনে নিতে নারাজ মুকেশ খান্না। কিন্তু এবার সেই বিতর্কে নয়া মোড় আনলেন স্বয়ং ‘তামরাজ কিলভিশ’। প্রবীণ অভিনেতা সুরেন্দ্র পাল মনে করেন, রণবীরই হতে পারেন আদর্শ শক্তিমান। তিনি মুকেশ খান্নাকে নিজের জেদ ছেড়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তামরাজ কিলভিশ-সুরেন্দ্র পাল
নব্বই দশকের ছোট পর্দার সেই অবিস্মরণীয় লড়াই কি ভোলা যায়? একদিকে ন্যায়ের প্রতীক শক্তিমান, অন্যদিকে অন্ধকারের রাজা কিলভিশ। সেই কিলভিশ ওরফে সুরেন্দ্র পাল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন এই কাস্টিং বিতর্ক নিয়ে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রণবীর সিং এই চরিত্রের জন্য মোটেও খারাপ পছন্দ নন। বরং ‘ধুরন্ধর’ সিনেমায় রণবীরের অভিনয় দেখার পর তিনি অভিনেতার বড় ফ্যান হয়ে গিয়েছেন। সুরেন্দ্র পালের মতে, আজকের সময়ের প্রেক্ষাপটে রণবীরের যে এনার্জি এবং অভিনয় দক্ষতা, তা শক্তিমান চরিত্রের জন্য উপযুক্ত হতে পারে।
কেন বেঁকে বসেছেন মুকেশ খান্না?
মুকেশ খান্না বরাবরই ঠোঁটকাটা। নিজের সৃষ্টি করা এই চরিত্রটিকে তিনি নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখেন। তাঁর মতে, শক্তিমান হতে গেলে কেবল ভালো অভিনেতা হলে চলে না, সেই চেহারা এবং ব্যক্তিত্ব থাকতে হয়। মুকেশ খান্নার দাবি, রণবীর সিং দুর্দান্ত অভিনেতা হতে পারেন, তিনি খিলজি বা গল্লি বয় হিসেবে সফল, কিন্তু শক্তিমানের সেই ‘আধ্যাত্মিক ও শান্ত’ ভাবমূর্তি তাঁর নেই। এমনকি এই কাস্টিং পছন্দ না হওয়ায় কোটি টাকার চুক্তি ফিরিয়ে দিতেও দ্বিধা করেননি আসল শক্তিমান। তিনি চেয়েছিলেন দেশজুড়ে অডিশন নিয়ে কোনও নতুন মুখকে এই সুযোগ দিতে।
সুরেন্দ্র পাল মনে করেন, মুকেশ খান্না অত্যন্ত একগুঁয়ে। তিনি বলেন, “মুকেশজি তাঁর চরিত্রের ব্যাপারে কোনও আপস করতে চান না। কিন্তু সময়ের সাথে ভাবনাচিন্তা একটু প্রসস্থ করা প্রয়োজন।” সোনি পিকচার্স যখন বড় বাজেটে এই ছবি বানাতে আগ্রহী এবং তাঁরা রণবীরকেই সুপারহিরো হিসেবে দেখতে চায়, তখন মুকেশ খান্নার এই অনড় অবস্থান ছবির ভবিষ্যৎকে কিছুটা অনিশ্চিত করে তুলছে। তবে কি কিলভিশের কথা শুনে মন গলবে শক্তিমানের? রণবীর সিং কি শেষমেশ গঙ্গাধর থেকে শক্তিমান হয়ে ওঠার সুযোগ পাবেন? উত্তর লুকিয়ে আছে সময়ের গর্ভে। তবে আপাতত প্রবীণ দুই সহকর্মীর এই মতবিরোধ বলিপাড়ায় নতুন করে আলোচনার রসদ জুগিয়েছে।