
বক্স অফিসে ‘ধুরন্ধর’ ঝড়। কিন্তু এত সাফল্যর পরেও রণবীর সিংয়ের কপালে যেন সুখ জুটছে না। একই কাণ্ডে বার বার তাঁকে ক্ষমা চাইতে হচ্ছে। আর এবার তো আদালতের নির্দেশ! ব্যাপারটা কী?
ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং দক্ষিণ ভারতের ‘দৈব’ সংস্কৃতিকে খাটো করার অভিযোগে বিদ্ধ রণবীর সিং। কর্ণাটক হাইকোর্টে চলা ‘কান্তারা’ নকল বিতর্ক মামলায় শুক্রবার এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এল। আদালত অভিনেতার আগের ক্ষমাপত্রটিকে ‘যথেষ্ট আন্তরিক নয়’ বলে মন্তব্য করার পর, রণবীরের আইনজীবী জানিয়েছেন যে তাঁরা অভিযোগকারীর সঙ্গে কথা বলে একটি নতুন এবং সংশোধিত হলফনামা জমা দেবেন।
গত ২৪ মার্চ আদালত রণবীরকে ক্ষমা চাইতে এবং কর্ণাটকের চামুণ্ডী মন্দির দর্শনের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মতো রণবীর একটি হলফনামা জমা দেন। কিন্তু ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সেখানে রণবীর লিখেছিলেন যে তিনি মুম্বইয়ের একটি সিন্ধি পরিবারে বড় হয়েছেন, তাই এই সংস্কৃতির স্পর্শকাতরতা সম্পর্কে তাঁর সম্যক ধারণা ছিল না। তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘যথা সময়ে’ তিনি মন্দিরে গিয়ে পুজো দেবেন। এই কারণ দেখানোয় এবং শব্দচয়নকেই আদালতের পক্ষ থেকে অসংবেদনশীল বলে মনে করা হয়েছে।
মামলাকারী প্রশান্ত মেথালের অভিযোগ আরও গুরুতর। আদালতে তিনি জানান, গোয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (IFFI 2025) যখন রণবীর ওই নকল করছিলেন, তখন মঞ্চে উপস্থিত খোদ ঋষভ শেট্টি (কান্তারা-র পরিচালক ও অভিনেতা) তাঁকে বারবার বারণ করেছিলেন। তা সত্ত্বেও রণবীর থামেননি। অভিযোগকারীর দাবি, “রণবীরের মধ্যে প্রকৃত কোনও অনুশোচনা নেই।”
২০২৫ সালের গোয়া চলচ্চিত্র উৎসবে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘কান্তারা: চ্যাপ্টার ১’-এর একটি বিশেষ দৃশ্যের নকল করেন রণবীর। সেখানে তিনি ‘দৈব’ বা পবিত্র বনদেবতাকে ‘মহিলা ভূত’ (Female Ghost) বলে সম্বোধন করেন। রণবীর বলেন, “ঋষভ, যখন ওই মহিলা ভূত তোমার শরীরে প্রবেশ করে, সেই শটটা অনবদ্য ছিল।” পবিত্র দেবতাকে ‘ভূত’ বলায় সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পরে একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, ঋষভ তাঁকে মঞ্চেই বারণ করেছিলেন এই অনুকরণ করতে।
শুক্রবার শুনানির সময় রণবীর সিং আদালতকে জানান যে তিনি বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁর হলফনামার বিষয়বস্তু পুনর্মূল্যায়ন এবং সংশোধন করতে রাজি। নতুন হলফনামা পেশ করার পর আদালত এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। সাফল্যের শিখরে থাকা রণবীরের কাছে এই আইনি জটিলতা এখন বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের ‘ভুল’ স্বীকার করে শেষ পর্যন্ত তিনি কর্ণাটকের চামুণ্ডী মন্দিরে কবে হাজিরা দেন, এখন সেটাই দেখার।