
মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক আজাদ ময়দান মানেই তো উদীয়মান ক্রিকেটারদের ঘাম, স্বপ্নের শুরু আর উইকেটের পেছনে রোমহর্ষক চিৎকার। কিন্তু সেই বাইশ গজে যদি আচমকা ক্রিকেটের বদলে বসে অ্যাকশন প্যাকড ফিল্মের সেট, তবে ক্ষোভের বিস্ফোরণ হওয়াটাই স্বাভাবিক। ঠিক এমনটাই ঘটল রণবীর সিংয়ের আগামী ছবি ‘প্রলয়’-এর শুটিংকে ঘিরে। মাঠে বড় বড় ক্যামেরা, কৃত্রিম ঘাস আর সেটের ভিড়ে বন্ধ রাখতে হল ছোটদের নির্ধারিত ক্রিকেট ম্যাচ। আর তাতেই রীতিমতো ফুঁসে উঠেছে মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (MCA)।
ঠিক কী ঘটেছে?
‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্যের পর রণবীর হাত দিয়েছেন তাঁর নতুন ছবি ‘প্রলয়’-এ। জানা গিয়েছে, ছবির শুটিংয়ের জন্য খোদ মহারাষ্ট্র সরকারের ক্রীড়া দপ্তর থেকে আজাদ ময়দানে ছ’ঘণ্টার শুটিংয়ের ছাড়পত্র জোগাড় করেছিলেন নির্মাতারা। কিন্তু এই অনুমতি মিলতেই শুরু যত গণ্ডগোল। শুটিংয়ের তোড়জোড়ে বাতিল করতে হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৪ এবং অনূর্ধ্ব-১৬ আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের একাধিক ম্যাচ। যেখানে ভবিষ্যতের তারকারা তৈরি হওয়ার কথা, সেখানে শুটিংয়ের কারণে খেলা ভেস্তে যাওয়ায় বেজায় ক্ষুব্ধ এমসিএ-র শীর্ষ কর্তারা। জানা যাচ্ছে, আজাদ ময়দানের ইতিহাসে এমন বাণিজ্যিক সিনেমার শুটিংয়ের অনুমতি নাকি এর আগে কখনও মেলেনি!
এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এমসিএ অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য নাদিম মেমন। সাফ ভাষায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ক্রিকেট মাঠে এমন বাণিজ্যিক শুটিং কীভাবে সম্ভব? নাদিমের বক্তব্য, “আজাদ ময়দান কোনও ফিল্ম স্টুডিও নয়। এখান থেকেই একের পর এক প্রতিভাবান ক্রিকেটার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছায়। ‘প্রলয়’ ছবির জন্য মাঠে বড় সেট তৈরি করা হয়েছে, কৃত্রিম ঘাস পাতা হয়েছে। এতে আমাদের নিয়মিত টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো বাতিল ও পেছাতে বাধ্য হতে হয়েছে। এই ক্ষতির দায় কে নেবে? ক্রীড়া দপ্তরের যেখানে খেলাধুলোকে উৎসাহিত করার কথা, সেখানে তারা এমন বাণিজ্যিক স্বার্থে মাঠ ভাড়া দিচ্ছে কী করে?”
পরিচালক জয় মেহতার হাত ধরে বড় পর্দায় আসতে চলেছে ‘প্রলয়’। জম্বি আর ডিস্টোপিয়ান শহরের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই হাই-কনসেপ্ট ছবিতে রণবীরকে দেখা যাবে এক্কেবারে অন্য অবতারে। ছবির গল্প যতই জমাটি হোক না কেন, ময়দানের পিচে বিনোদন আর খেলাধুলোর এই সরাসরি সংঘাত কিন্তু মোটেই হালকাভাবে নিচ্ছে না মুম্বই ক্রিকেটের মহল।