
একেন বাবু আর তার দুই সঙ্গী বেরিয়ে পড়েছেন পুরুলিয়া ভ্রমণে। ত্রয়ী যেখানেই পৌঁছে যায়, কিছু একটা রহস্য ঘনিয়ে ওঠে। আর তারপর রহস্য সমাধানের দায়িত্ব পড়ে একেন বাবুর উপর। একেনবাবু এমনিতে ভোজনরসিক, তা কে না জানেন! তবে এবার শালপাতা মাটনের বিষয়ে তার তুমুল উত্সাহের পাশাপাশি পেড়া খাওয়ার জন্য যে পিড়াপিড়ি, তা একেবারে চুম্বক।
পুরুলিয়ার এক আশ্রমের গল্প এটি। আশ্রমের যে প্রধান, সে পৈতৃক সূত্রে এক মহামূল্য পান্না পেয়েছে। কিন্তু এক বিশেষ অনুষ্ঠানের দিনে পান্না হারিয়ে যায়। পান্না না পেলে, পরব শুরু হবে না। আশ্রমের লাইব্রেরি পেরিয়ে এক লকারে ছিল পান্না। এই পান্না খুঁজে বের করে দেবে একেনবাবু, তা আমি-আপনি সকলেই জানি। কীভাবে? সেটাই দেখার।
একেনবাবুর এই গল্পটির সঙ্গে এই বছর মুক্তি পাওয়া কাকাবাবুর গল্পের একটা অংশ মিলে যায়। আবার আসল-নকলের খেলার নিরিখে ফেলুদার একটা গল্পের সঙ্গেও মিল রয়েছে। পুরুলিয়া ছৌ নাচ বাঙালি এর আগে দেখেছে অনেক। কিন্তু পুরুলিয়ার বাকি চমক এক্সপ্লোর করার খুব একটা সুযোগ চিত্রনাট্যে ছিল না। বরং জোর দেওয়া হয়েছে চার দেওয়ালে মধ্যে রহস্য সমাধানের ক্ষেত্রেই।
ইন্টারেস্টিং বিষয় হল, চার দেওয়ালে আটকে পড়লেও, এই ওয়েব সিরিজ থেকে চোখ সরাতে দেবেন না অনির্বাণ চক্রবর্তী। এবারের চিত্রনাট্যের সেন্স অফ হিউমার অনবদ্য। পুরুলিয়ার পেড়া বা সাগর হোটেলের মাটন নিয়ে একেনবাবু যা কাণ্ড বাঁধিয়েছেন, তা দেখে হাসতে-হাসতেই সিরিজ শেষ করে ফেলা যায়। চিত্রনাট্য থেকে সংলাপ প্রশংসার দাবি রাখে। বিশেষ করে যেসব সংলাপ একেনবাবুর মুখে রয়েছে। একেনবাবুর দুই সঙ্গী হিসাবে সোমক ঘোষ আর সুহোত্র মুখোপাধ্যায়ের কাজ দারুণ লাগে। বাকি চরিত্রদের আলাদা করে নজরকাড়ার জায়গা নেই।
এমন অনেক গোয়েন্দা সিরিজের সঙ্গে বাঙালি পরিচিত, যেখানে প্রধান মুখ বারংবার বদল হয়েছে। যেমন ফেলুদা বা ব্যোমকেশ। সেখানে গল্পের জোরেই গোয়েন্দা কাহিনি দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু একেনবাবুর ক্ষেত্রে বলা যায়, অনির্বাণ চক্রবর্তী তাঁর অতীব সূক্ষ্ম অভিনয় শৈলীর মাধ্যমে ওয়েব সিরিজটির শিরদাঁড়া হয়ে উঠেছেন। একেনবাবুকে জীবন্ত করে তুলতে তিনি কতটা পড়াশোনা করে প্রস্তুত, তা প্রতিটি অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট। একই কথা প্রযোজ্য পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের জন্য। আশ্রমের ঘি মাখা পেড়ার যেমন কোনও বিকল্প নেই, তেমনই একেনবাবু সিরিজটি জয়দীপের হাতেই পরিধি বিস্তার করুক, সেটাই চাই।
এই গল্পের শেষে অবাক করা টুইস্ট আছে। সেটাও মনের মধ্যে কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয়। দুর্গাপুজোতে বড়পর্দায় একেনবাবু মুক্তি পাবে। সেক্ষেত্রে কোন পরিসরে, কোন গল্প নিয়ে একেনবাবু হবে, তার কোনও যোগ এই ওয়েব সিরিজের ক্লাইম্যাক্সের সঙ্গে আছে কি না, সে দিকেও নজর রাখতে বলব দর্শকদের। মোটের উপর নববর্ষের উদযাপনে বেশ কিছুটা হাসতে আর রহস্যে-রোমাঞ্চে ভাসতে একবার দেখতে পারেন এই ওয়েব সিরিজ।