
পর্দার সামনে তাঁর মোহময়ী হাসি কোটি কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ৭১-এ দাঁড়িয়ে থাকা ভানুরেখা গণেশন, যাঁকে বিশ্ব চেনে ‘রেখা’ নামে, তাঁর জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে কেবলই উপেক্ষা আর একাকীত্ব। সিমি গারেওয়াল-এর জনপ্রিয় টক-শোতে নিজের জীবনের এমনই কিছু বিস্ফোরক সত্য উন্মোচন করেছেন এই ডিভা।
১৯৫৪ সালের ১০ অক্টোবর এক মাদ্রাজ পরিবারে জন্ম রেখার। দক্ষিণি সুপারস্টার জেমিনি গণেশন এবং জুনিয়র শিল্পী পুষ্পবল্লীর সম্পর্কের ফসল ছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় জেমিনি গণেশন রেখাকে জনসমক্ষে নিজের সন্তানের স্বীকৃতি দেননি। বাবার স্নেহের বদলে একরাশ গ্লানি নিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁর পথ চলা।
চলচ্চিত্র জগতে পা রাখার পর অনেক অভিনেতার সঙ্গেই রেখার নাম জড়িয়েছিল। কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়টি শুরু হয় আশির দশকে, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে। ‘দো আনজানে’ ছবির সেটে প্রথম দেখা, তারপর একের পর এক সুপারহিট ছবি। ১৯৮১ সালে ‘সিলসিলা’র পর তাঁদের পথ চিরতরে আলাদা হয়ে যায়।
১৯৯০ সালে ব্যবসায়ী মুকেশ আগরওয়ালকে বিয়ে করেন রেখা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই মুকেশ আত্মহত্যা করেন। তারপর থেকে একাকীত্বই হয়ে ওঠে রেখার নিত্যসঙ্গী। সিমি গারেওয়ালের শো-তে নিজের অন্ধকার দিনগুলো নিয়ে অভাবনীয় সততার পরিচয় দিয়েছেন রেখা। টাইসম নাও-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যখন তাঁকে তাঁর নেশার অভ্যাস নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, রেখা সরাসরি জানান, “অবশ্যই আমি প্রচুর মদ্যপান করেছি। এমনকি ড্রাগসও নিয়েছি। আমি অত্যন্ত কলুষিত হয়ে পড়েছিলাম এবং লালসার নরকে ডুবে ছিলাম। কিন্তু কেউ কি কোনোদিন আমায় জিজ্ঞেস করেছে আমি কেন এসব করছি? জীবন থেকে আমি কী পেয়েছি আর কী পাইনি?”
বিবাহিত পুরুষের প্রেমে পড়া নিয়ে সিমি গারেওয়ালের প্রশ্নের জবাবে রেখা অত্যন্ত সংযত কিন্তু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি তাঁকে (অমিতাভ) মন থেকে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি কখনোই কারোর ঘর ভেঙে সুখী হতে পারব না। তাই আমি নিজের অধিকার কখনও দাবি করিনি, শুধু দূর থেকে তাঁর মঙ্গল কামনা করেছি।” আজও সিঁথিতে সিঁদুর আর পরনে কাঞ্জিভরম শাড়িতে রেখা যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান, কেউ বুঝতেই পারে না এই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে কতটা দহন। নিজের শর্তে বাঁচা এই অভিনেত্রী আজও বলিউডের সবচেয়ে রহস্যময়ী ‘এভারগ্রিন’ সুন্দরী।