
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে হতবাক চলচ্চিত্র পরিচালক রামগোপাল বর্মা। সোমবার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে ২০৭টি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূলের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮০-তে।
এই পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকার করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। উল্টে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্র লুট’ করার অভিযোগ তুলে নিজেকে ‘নৈতিক জয়ী’ হিসেবে দাবি করেছেন তিনি। মমতার এই অবস্থান ঘিরেই সরব হয়েছেন রামগোপাল বর্মা। সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে পরিচালক লেখেন, “এত দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ার এবং ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটা কী করে ভুলে গেলেন যে, প্রতিষ্ঠানের উপর আক্রমণ মানেই আসলে গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ! অবিশ্বাস্য।”
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন যে তিনি এখনই রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দেবেন না। তাঁর কথায়, “আমি পদত্যাগ করব না। আমি হারিনি… রাজভবনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে আমাদের সরকারিভাবে হারানো হতে পারে, কিন্তু নৈতিকভাবে আমরাই জিতেছি।”
শুধু তাই নয়, ভোট গণনার সময় তাঁর ওপর শারীরিক হেনস্থার চাঞ্চল্যকর অভিযোগও তুলেছেন মমতা। তিনি দাবি করেন, গণনাকেন্দ্রে তাঁকে পেটে লাথি মারা হয়েছে এবং তাঁর এজেন্টদের মারধর করা হয়েছে। এমনকি সিসিটিভি ক্যামেরা ইচ্ছা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলেও তাঁর অভিযোগ।
কুর্সি হারানোর পর নিজের পরবর্তী লক্ষ্যের কথাও জানান বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, “আমার লক্ষ্য এখন পরিষ্কার। ইন্ডিয়া (INDIA) জোটকে আরও শক্তিশালী করব। আমি এখন মুক্ত বিহঙ্গ। দীর্ঘ ১৫ বছর এক পয়সা বেতন বা পেনশন নিইনি, সারাজীবন মানুষের সেবা করেছি। এবার সাধারণ মানুষের মতো থেকেই কাজ করে যাব।” তৃণমূল নেত্রীর এই অনড় অবস্থান এবং পরাজয় স্বীকার না করার মানসিকতা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।