
১৯৮৮ সাল। দুবাইয়ের এক জনশূন্য রাস্তায় ঋষি কাপুরের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল এক ঝকঝকে ‘রোলস রয়েস’। গাড়িটি পাঠিয়েছিলেন খোদ দাউদ ইব্রাহিম। চালক যখন ঋষিকে ডনের আস্তানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন বারবার রাস্তা বদলে গোলকধাঁধা তৈরি করা হচ্ছিল যাতে দাউদের গোপন ডেরার হদিশ কেউ না পায়। অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে দাউদের মুখোমুখি হয়েছিলেন বলিউডের এই রোমান্টিক হিরো।
ঋষি কাপুর (Rishi Kapoor) এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, দাউদ তাঁকে অত্যন্ত সাদামাটাভাবে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। কোনও রাজকীয় আয়োজন নয়, বরং চা আর বিস্কুট দিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁদের কথোপকথন। দাউদ নিজে মদ্যপান করতেন না, তাই ঋষির জন্যও কোনও মদের ব্যবস্থা ছিল না। সেই আড্ডায় দাউদ অবলীলায় তাঁর অপরাধ জগতের কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বললেও ঋষি খেয়াল করেছিলেন যে, ডনের গলায় কোনও অনুশোচনা ছিল না। বিদায়লগ্নে দাউদ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বলেছিলেন, “আপনার যদি কোনও কিছুর প্রয়োজন হয়, আমায় নির্দ্বিধায় জানাবেন।” ডনের মুখে এমন বিনয়ী প্রস্তাব শুনে অবাক হয়েছিলেন অভিনেতা।
এর ঠিক এক বছর পর, ১৯৮৯ সালে দুবাইয়ের এক মার্কেটে স্ত্রী নীতু কাপুরের সঙ্গে কেনাকাটা করার সময় ফের দাউদের দেখা পান ঋষি। ডনের চারপাশে তখন আট-দশজন সশস্ত্র দেহরক্ষী। দাউদের হাতে ছিল সে যুগের বিরল বস্তু— একটি মোবাইল ফোন। ঋষিকে দেখেই দাউদ তাঁকে কিছু একটা উপহার দেওয়ার জেদ ধরেন। কিন্তু ঋষি অত্যন্ত কৌশলে সেই মহার্ঘ্য প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
ঋষি কাপুর তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন যে, দাউদ তাঁর সঙ্গে সব সময় অত্যন্ত সৌজন্যমূলক ও আন্তরিক ব্যবহার করেছেন। দাউদের এই ‘ভদ্র’ রূপের সঙ্গে ভারতবিরোধী সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের কোনও মিল খুঁজে পেতেন না ঋষি। বইয়ের পাতায় অভিনেতা আক্ষেপ করে লিখেছিলেন, “সবকিছু কত দ্রুত বদলে গেল! আমি জানি না কেন তিনি আমার দেশের সঙ্গে এমন জঘন্য কাজ করতে শুরু করলেন।” দুবাইয়ের সেই দ্বিতীয় সাক্ষাতের পর দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে ঋষি কাপুরের আর কখনও দেখা হয়নি। তবে সেই রোমহর্ষক স্মৃতিগুলো আজও বলিউডের অন্দরমহলে এক অমীমাংসিত রহস্য হয়ে রয়ে গিয়েছে।