
তিলোত্তমার মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রায় চাপা পড়ে গিয়েছিল আরজিকর মামলা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই আরজিকর মামলার ফাইল নতুন করে খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রসঙ্গ উঠতে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু তদন্তের কি হল? আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশনের প্রতিবাদ করার পর আজ পর্যন্ত রাহুলের মৃত্যুর সঠিক কারণ সামনে আসেনি। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পালাবদলের পর ওমেন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন লেখিকা প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। তবে রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুর তদন্তের গতি সেভাবে চোখে পড়ছে না। সম্প্রতি হাওড়া বিধান সভা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। টিভিনাইন বাংলার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বললেন, ” রাহুল আমার ভ্রাতৃসম। আমার স্ট্রাগলের দিনগুলোতে বহুদিন রাহুলের মায়ের হাতের রান্না খাবার খেয়েছি। রাহুল আমাকে অভিনয়ের গুরু হিসেবে মানতো। তাই ভারতীয় জনতা দল বাংলায় সরকারের গঠনের পর যেমন আরজিকর মামলার ফাইল খুলেছে। এবার রাহুলের দাদা হিসেবে আমার কাজ , শুধু আমার নয় ইন্ডাস্ট্রির ভিতরে রাহুলের সকল দাদা, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, আরও অনেকের প্রয়াস থাকবে, রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুর পুর্নাঙ্গ তদন্তের গতি বাড়ানো, ও রাহুলের মৃত্যুর কারণ সামনে আনা হবে।
প্রসঙ্গত, কখনও শুটিং বন্ধ, কখনও ফেডারেশনের চাপে ছবি রিলিজের নিষেধাজ্ঞা। কখনও আবার কোনও নির্দিষ্ট অভিনেতা বয়কট। গত কয়েকবছরে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ঘটনার ঘনঘটা। আর প্রতিবারই অভিযোগের তীর ফেডারেশনের তরফে। অনেক শিল্পীরা আবার স্পষ্ট আঙুল তুলেছেন ইন্ডাস্ট্রির বিশ্বাস ব্রাদার্সের দিকে। এবার টলিউডের অন্দরের এই অরাজকতার দিকেই কড়া নজর দিতে বদ্ধপরিকর বাংলার নতুন সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে টলিউডের দুর্নীতি এবং অরাজকতা সমাধান নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের আলোচনায় ছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়। পাপিয়া অধিকারীরও থাকার কথা ছিল। কিন্তু জানা গিয়েছে, বিধানসভায় অন্য কাজ থাকায় এই বৈঠকে তিনি থাকতে পারেননি।
Tv9Bangla-কে বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানিয়েছিলেন, ”কিছু অশুভ শক্তি রয়েছে, যাঁরা সংস্কৃতিজগতে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে,আগেও অশুভ পরিবেশ তৈরি করেছে, যা কিনা সিনেমা ও সংস্কৃতি জগতের পক্ষে ভয়ঙ্কর বিপদজনক । সেই অশুভ শক্তিই এই সময়েও ভুলবার্তা ছড়াচ্ছে, আবার লুঠপাটের চেষ্টা করছে। সংস্কৃতি জগতের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। সংস্কৃতিজগতের এই পরিবেশকে বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।”
রুদ্রনীল আরও জানিয়ে ছিলেন, ” তিনি নির্দেশ দিয়েছেন সংস্কৃতি দফতরের যাঁরা দায়িত্বশীল অফিসার রয়েছে, সচীব রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে দ্রুত একটা মিটিংয়ে বসতে, যাতে অরাজকতা বন্ধ হয়। তিনি বলেছেন কোনও মূল্যেই দাদাগিরি,তোলাবাজি চলবে না, যোগ্যরাই এই শিল্প-সংস্কৃতি মহলে কাজ করবে, সেরকম পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর নতুন সরকার, সেটা ফলোআপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।”