
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই টলিপাড়ার চেনা সমীকরণগুলো দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। বিগত তৃণমূল জমানায় টলিপাড়ার টেকনিশিয়ানদের ফেডারেশনের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। কিন্তু ক্ষমতার অলিন্দে দিন বদলাতেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে এবং বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। গত ডিসেম্বরেই ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে স্বরূপ বিশ্বাসের মেয়াদ শেষ হয়েছিল। এরপর গত ৪ মে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর স্টুডিও পাড়ার রাশ অনেকটাই চলে এসেছে নতুন নেতৃত্বের হাতে। নতুন জমানায় প্রথম দিকে বেশ কিছু শুটিং বেশ নির্বিঘ্নেই কাটছিল। কিন্তু এরই মাঝে এক রহস্যময় ইমেল ঘিরে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে টেকনিশিয়ানদের একাংশের মধ্যে।
কী রয়েছে সেই রহস্যময় ইমেলে?
স্টুডিও পাড়ায় আচমকাই চক্কর কাটছে একটি অদ্ভুত ইমেল। সেখানে সাফ জানানো হয়েছে, টলিপাড়ায় যেকোনো নতুন শুটিং বা কাজের শুভারম্ভ করতে হলে ফেডারেশনের একটি নির্দিষ্ট ইমেল আইডিতে মেইল করে আগাম অনুমতি নিতে হবে। বিতর্ক দানা বেঁধেছে অন্য জায়গায়। সেই ইমেলে যোগাযোগের জন্য যে হেল্পলাইন নম্বরটি দেওয়া হয়েছে, সেটি আসলে স্বরূপ বিশ্বাসের আমলের পুরনো ফেডারেশনের নম্বর! ক্ষমতা ও নেতৃত্ব বদলের পরেও কেন পুরনো ব্যবস্থার নম্বর ব্যবহার করে সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর চেষ্টা হচ্ছে, তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
এই ঘটনা সামনে আসতেই টলিপাড়ার অন্দরে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ টেকনিশিয়ান ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমরা সকলেই জানি যে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের দায়িত্বভার সরাসরি নিজের হাতে রেখেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সাথে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন পূর্ণিমা চক্রবর্তী। টলিপাড়া আগামীদিনে কীভাবে পরিচালিত হবে, এখানকার কর্মপদ্ধতি বা গাইডলাইন কী হবে— সেই সমস্ত নির্দেশিকা নতুন সরকারই ঠিক করবে এবং সেটাই আমাদের সকলের মেনে চলা উচিত। এর মাঝে এই ধরণের ইমেল পাঠিয়ে জল ঘোলা করার চেষ্টা কারা করছে, তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না।”
এবার এই রহস্যময় ইমেল নিয়ে টিভি নাইন বাংলার কাছে মুখ খুললেন বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। রুদ্র জানান,
”ফেডারেশন বলে যে ট্রেড ইউনিয়ানের সংস্থা, যাঁর সভাপতি এই মুহূর্তে আইনি কারণে জেলে রয়েছেন এবং সেই ফেডারেশনের সঠিক কোনও স্ট্রাকচার নেই, কোনও বডি না থাকার কারণে, তাঁরা এককথায় বলা যায় অক্ষম। তাই সেখান থেকে কোনও মেল আসলে তা অবৈধ ও বেআইনি। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যত অভিজ্ঞ মানুষ তাঁরা বলছেন বা যাঁরা ট্রেড ইউনিয়ান অ্যাক্ট নিয়ে কাজ করছেন , যে এই মেল থেকে নানারকম বিভ্রান্তিমূলক কাণ্ডকারখানা হচ্ছে। তথ্য-সংস্কৃতি দফতর, সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী এখনও পর্যন্ত বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যে যে বিষয়গুলি কেমন করে চলবে, তা নিয়ে কোনও নোটিফিকেশন দেয়নি। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, যে যতক্ষণ না পর্যন্ত কোনও সরকারি নোটিফিকেশন না আসে, মিটিংয়ে যা আলোচিত হয়েছে, তারপর সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে, তার আগে কোনও ব্যক্তিগতভাবে বা এরকম বিভ্রান্তিকর ইমেলের কোনও বৈধতা আইনত নেই। অনেক বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে। কেউ কেউ তো বলছেন, যে জেলে বসে স্বরূপ বিশ্বাস, মেল করাচ্ছেন কাউকে দিয়ে। আমরা জানি না সেটা কে, এই সমস্ত বিষয়ে, কান-চোখ না দেওয়াই উচিত। অক্ষেপা করুন, সরকার কি করছে। সরকার শিল্পীদের পাশে, প্রযোজকদের পাশে, টেকনিশিয়ানদের পাশে রয়েছে। সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুরো বিষয়টা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।”