AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Rudranil Ghosh: বিধানসভায় ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ বলে কী বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রুদ্রনীল?

Rudranil Ghosh at west Bengal Assembly: সোশাল মিডিয়া নয়, বরং বিধানসভাকেই বেছে নিলেন খোঁচা দেওয়ার মোক্ষম মঞ্চ হিসেবে। আর এবারও তার কবিতার টার্গেটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টার্গেটে তৃণমূলের ভবিষ্যত। তবে এবার রুদ্রনীল কবিতার ছন্দ ধার করলেন বাংলার 'দিদি'র এপাং ওপাং ঝপাং কবিতা থেকেই। বিধানসভায় প্রথম দিন বলতে গিয়েই চর্চায় উঠে এলেন বিধায়ক তথা অভিনেতা রুডি।

Rudranil Ghosh: বিধানসভায় 'এপাং ওপাং ঝপাং' বলে কী বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রুদ্রনীল?
| Updated on: Jun 25, 2026 | 5:19 PM
Share

রুদ্রনীল ঘোষ বরাবরই তৃণমূল তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষুরধার কলম ধরার জন্য পরিচিত। ২১ জুলাইয়ের জনসভা হোক কিংবা সমসাময়িক কোনও রাজনৈতিক ইস্যু, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কবিতা প্রায়শই ভাইরাল হত। তবে এখন তিনি শাসকদলের বিধায়ক। তাই সোশাল মিডিয়া নয়, বরং বিধানসভাকেই বেছে নিলেন খোঁচা দেওয়ার মোক্ষম মঞ্চ হিসেবে। আর এবারও তার কবিতার টার্গেটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টার্গেটে তৃণমূলের ভবিষ্যত। তবে এবার রুদ্রনীল কবিতার ছন্দ ধার করলেন বাংলার ‘দিদি’র এপাং ওপাং ঝপাং কবিতা থেকেই। বিধানসভায় প্রথম দিন বলতে গিয়েই চর্চায় উঠে এলেন বিধায়ক তথা অভিনেতা রুডি।

তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে বিধানসভায় ঠিক কী কবিতা শোনালেন রুদ্রনীল?

“রানি আছেন টেনশনে। তাল কেটেছে সব গানে।
রানি আছেন টেনশনে। তাল কেটেছে সব গানে।
এপাং ওপাং ঝপাং সবাই। কোথায় কে যাবে ভাই? কে জানে?
রানি আছেন টেনশনে।
রাস্তাঘাটে উড়ছে ডিম। মুরগিছানা আসমানে,
ভবিষ্যতের গল্প খারাপ, তাই রানি আছেন টেনশনে,
ডিম উড়ছে আসমানে।”

মুখ্যমন্ত্রীর এক সময়ের বিখ্যাত ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ লাইনটি ধার করে এবং সাম্প্রতিক ‘ডিম’ বিতর্ককে জুড়ে দিয়ে রুদ্রনীলের এই ছড়া বিধানসভার অধিবেশনে শোরগোল পড়ে যায়। প্রথমবার বলতে উঠেই রুদ্রনীল যেভাবে তাঁর চিরাচরিত ‘পয়েটিক জাস্টিস’ বজায় রাখলেন, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অলিন্দে জোর চর্চা।

তবে শুধুই কবিতা নয়, রুদ্রনীলের বক্তব্যে উঠে আসে ভুয়ো শিল্পী পরিচয় দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও। এদিন বিধানসভায় রুদ্রনীল বলেন, ”আমরা জানি যে শ্যাওলা পড়া বাড়িতে নতুন রং করতে গেলে যেমন রং লাগাবার আগে ঘষে ঘষে দেওয়াল থেকে ওই শ্যাওলাগুলো তুলতে হয়, ঠিক তেমনি শিল্প সংস্কৃতির ক্ষেত্রে উন্নতি করতে গেলে এই বিষাক্ত শ্যাওলাগুলোকে নির্মূল করতে হবে। না হলে ২০২৬-২০২৭-এ এই বাজেটে আপাতত বরাদ্দ ৮১৫ কোটি টাকার প্রতিটি টাকাই নষ্ট হবে। শুধুমাত্র সিনেমা, থিয়েটার, যাত্রা, সঙ্গীত, নৃত্য, চারুকলা বা লোকশিল্প নয়, শিল্প মাধ্যমের সবকটি ক্ষেত্রেই তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের এবং এই সরকারের কড়া নজরদারির মাধ্যমে অর্থ খরচ প্রয়োজন বলে বিশেষভাবে মনে করি। অবশ্যই প্রতিটি শিল্পক্ষেত্রে শিল্পীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য বীমার নতুন সরকার পরিকল্পনা করবে। নিশ্চয়ই নতুন সরকার তাবেদারি নয়। কেবলমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এবং ক্ষেত্রে শিল্পীদের যোগ্যতা এবং গুনের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে নজরদারি করবে এই আমাদের সবার বিশ্বাস। যে অত্যাচার টলিউড পাড়ায় চলেছে, সঙ্গীত জগতে চলেছে তা শিল্প সংস্কৃতির সবকটি ক্ষেত্রেই ঘটেছে।”

এরপরেই পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন রুদ্রনীল। তিনি বলেন, ”অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিল্পীদের বা শিল্প গোষ্ঠীকে অনুদান বা সাহায্য পাইয়ে দেওয়ার নামে ভুয়োদের তালিকা দিয়ে লুট হয়েছে কোটি কোটি টাকা। ঠিক যেমন আবাস যোজনা সমেত নানান যোজনায় লুট হয়েছে। একটা উদাহরণ দিই। বাংলায় প্রায় দশ লক্ষ কীর্তন শিল্পী রয়েছে । সবাই একটু মন দিয়ে শুনুন। বাংলার প্রায় দশ লক্ষ কীর্তন শিল্পী আছে ছোট বড়। তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ লক্ষ শিল্পীকে দিয়ে দুই হাজার ষোল সাল থেকে মাসে চার হাজার করে একটা অনুদান দেওয়া হতো। তাদের কাজ ছিল আগের সরকার এবং আগের মুখ্যমন্ত্রীর গুণগান করা পথেঘাটে ঘুরে। মজার কথা, এই পাঁচ লাখের মধ্যে আড়াই লাখ শিল্পীই ছিল ভুয়ো শিল্পী এবং তারা ছিল এর আগের সরকারের তৃণমূল কর্মী। যারা শিল্পী নয় তারাও এই সরকারের টাকা খেয়েছে। আমি জানি না এখানে সেই শিল্পীদের মধ্যে কেউ তো বসে আছেন কি না। হিসেবটা দিই কতো টাকা চুরি হয়েছে। জলে গিয়েছে আড়াই লাখ গুণ করে এক মাসে যদি চার হাজার করে হয় তো তাহলে দশ কোটি টাকা মাসে মানে, একশো কুড়ি কোটি টাকা বছরে। আর ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সালে যদি এই চুরি ধরা হয় তাহলে বারোশো কোটি টাকা, ভুয়ো শিল্পীর নাম করে শুধুমাত্র কীর্তন শিল্পীদের কাছ থেকে চুরি করা হয়েছে। এবার ভেবে নিন শিল্পক্ষেত্রে এই রাজ্য সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে শিল্পীদের সহায়তার নামে বা যে গোষ্ঠীদের সহায়তার নামে যে টাকাটা দেয় ওই আবাস যোজনার টাকার মতো সেগুলো ভুয়ো। তাই আমাদের নতুন সরকারকে, সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রীকে এবং সংস্কৃতি দপ্তরকে এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন তাঁকে অনুরোধ করব যে এই বিষয়ে নজরদারি করতে।”

মুখ্যমন্ত্রীর এক সময়ের বিখ্যাত ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ লাইনটি ধার করে এবং সাম্প্রতিক ‘ডিম’ বিতর্ককে জুড়ে দিয়ে রুদ্রনীলের এই ছড়া বিধানসভার অধিবেশনে শোরগোল পড়ে যায়। প্রথমবার বলতে উঠেই রুদ্রনীল যেভাবে তাঁর চিরাচরিত ‘পয়েটিক ’ অবতার বজায় রাখলেন, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অলিন্দে জোর চর্চা।

 

Follow Us