
ব্যক্তিগত জীবনের মতোই সইফ আলি খানের পেশাগত জীবনও নানা চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। ১৯৯৩ সালে ‘পরম্পরা’ ছবির হাত ধরে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক হলেও, সইফের বলিউড সফর শুরু হওয়ার কথা ছিল ১৯৯১ সালে ‘বেখুদি’ ছবির মাধ্যমে। প্রথম শিডিউলের শুটিং শেষ করার পরই অবশ্য ছবি থেকে বাদ পড়েন তিনি। তবে ততদিনে তাঁর আলাপ হয়ে গিয়েছিল অমৃতা সিংয়ের সঙ্গে, এবং সেই বছরই তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
সম্প্রতি একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে সইফ প্রকাশ করেছেন যে, কেরিয়ারের স্বার্থে তাঁর প্রথম বিয়ের খবর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। নবাব-পুত্র জানান, “আমার মনে আছে, অন্য প্রজন্মের একজন বর্ষীয়ান অভিনেতা আমাকে বলেছিলেন আমি যে বিবাহিত, সে কথা যেন কাউকে না জানাই। উনি কেন এমনটা বলেছিলেন, আমি জানি না। আমার মনে হয় উনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে বিয়ের খবর জানাজানি হলে আমার ইমেজ এবং ফ্যান ফলোয়িং নষ্ট হতে পারে। এটা আমার জীবনে পাওয়া সবচেয়ে খারাপ এবং অদ্ভুত পরামর্শ ছিল।”
একটি নামী ফিল্মি পরিবারে বড় হওয়া সত্ত্বেও বলিউডে সইফের পথচলাটা মোটেও সহজ ছিল না। এক পরিচালক তো তাঁকে পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করতেও বারণ করেছিলেন, কারণ তাঁর মনে হয়েছিল সইফকে পর্দায় পুলিশ হিসেবে দেখলে ‘হাস্যকর’ লাগবে। সইফের নিজেরও সবচেয়ে বড় ভয় ছিল যে দর্শকরা যেন তাঁকে নিয়ে উপহাস না করেন।
পুরনো দিনের স্মৃতি হাতড়ে সাইফ বলেন, “আমি যখন কাজ শুরু করি, আমার প্রধান লক্ষ্যই ছিল লোকে যেন আমাকে দেখে হেসে উড়িয়ে না দেয়। আমার এক পরিচালক তো একবার বলেই বসেছিলেন যে মানুষ জুতো মারবে! চন্দন সিনেমাহলে যখন ছবিটা স্ক্রিন করা হবে, তখন দর্শক হয়তো আমাকে দেখে হাসবে এবং ঘৃণা করবে, আর আমি কাজ হারাব।”
সইফ আরও যোগ করেন, “আমি নিশ্চিত যে বহু অভিনেতা যখন প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান, তাঁদের মনেও এই ভয়টা থাকে যে লোকে যেন তাঁদের নিয়ে হাসাহাসি না করে। এটাই স্বাভাবিক। এই পর্যায়টা পার করার পর হয়তো কেউ ‘মিস্টার বচ্চন’ হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারেন, কিন্তু শুরুটা এভাবেই হয়। আমার মধ্যে সেই বিনম্রতা সবসময় ছিল। আমি নিজের কাজের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং কাজের প্রতি একটা সততা বজায় রাখার সংকল্প নিয়েছি, যাতে নিজের কাজের বিশুদ্ধতা ধরে রাখা যায়। আমার ভাবনা সবসময় এটাই ছিল।”