
আজকের দিনে বলিউডে ‘সলমন খান’ মানেই বক্স অফিসে কোটি কোটি টাকার লগ্নি, হাউসফুল থিয়েটার আর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ ভক্তের উন্মাদনা। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের মসনদে একটানা রাজত্ব করছেন তিনি। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ লড়াই, অনিশ্চয়তা আর অতি সামান্য পারিশ্রমিকে পথচলা শুরুর গল্প।
আজ যিনি প্রতি ছবির জন্য হাঁকান আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক, সেই বলিউডের ‘ভাইজান’-এর প্রথম উপার্জন কিন্তু কোটি বা লাখ টাকা ছিল না। বিখ্যাত চিত্রনাট্যকার সলিম খানের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও সলমন খানের বিনোদন জগতের সফরটা একেবারেই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। প্রথম জীবনের উপার্জন বলতে ছিল মুম্বইয়ের তাজ হোটেলের এক অনুষ্ঠানে ব্যাকগ্রাউন্ড ডান্সার হিসেবে পাওয়া মাত্র ৭৫ টাকা। এরপর মডেলিং ও বিজ্ঞাপনী ছবিতে ছোটখাটো কাজ দিয়ে নিজের জমি তৈরি করতে থাকেন তিনি।
১৯৮৮ সালে ‘বিবি হো তো অ্যায়সি’ (Biwi Ho To Aisi) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। প্রখ্যাত অভিনেত্রী রেখার দেওরের ভূমিকায় এক পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সলমন। এই প্রথম ছবির জন্য তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ১১,০০০ টাকার একটি চেক।
তবে পার্শ্বচরিত্র দিয়ে শুরু হলেও সলমনের আসল ঘুরে দাঁড়ানো ছিল ঠিক তার পরের বছরই। ১৯৮৯ সালে রাজশ্রী প্রোডাকশনের রোম্যান্টিক ড্রামা ‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’ (Maine Pyar Kiya)-য় প্রথমবার হিরোর সুযোগ পান তিনি। ‘প্রেম’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় রাতারাতি পুরো দেশকে বুঁদ করে ফেলে। জানা যায়, ছবিটির জন্য প্রাথমিকভাবে তাঁর সঙ্গে মাত্র ৩১,০০০ টাকার চুক্তি হয়েছিল। তবে ছবি মুক্তির পর তা বক্স অফিসে ইতিহাস তৈরি করে এবং সলমনের কাজ দেখে প্রযোজক-পরিচালক এতটাই সন্তুষ্ট হন যে তাঁর পারিশ্রমিক বাড়িয়ে ৭৫,০০০ টাকা করা হয়।
‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’-র অভূতপূর্ব সাফল্যের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ‘হাম আপকে হ্যাঁয় কৌন..!’, ‘করণ অর্জুন’, ‘তেরে নাম’, ‘দাবাং’, ‘সুলতান’ কিংবা ‘বজরঙ্গি ভাইজান’. টাইগার— রোম্যান্টিক হিরো থেকে নিজেকে রূপান্তর করেছেন বক্স অফিসের সবচেয়ে বিশ্বস্ত অ্যাকশন তারকায়। আর এখন তো তিনি বিগ বসের সঞ্চালনা করে, প্রতি এপিসোডেই কোটি কোটি টাকা পকেটে পুরছেন। সেই ১১ হাজার টাকা পাওয়া অভিনেতাই এখন বলিউডের দাবাং ভাইজান!