Salman Khan: ‘আপনার সঙ্গে উড়তে চাই!’ পাইলট স্মিতকে কী বার্তা দিলেন সলমন?

Salman on Captain Smit Machchhar: কো-পাইলটের প্রাণঘাতী ছুরিকাঘাত এবং রক্তাক্ত শরীরেও বিমানকে সুরক্ষিতভাবে অবতরণ করানোর সেই অবিশ্বাস্য বীরত্বকে এবার কুর্নিশ জানালেন বলিউড সুপারস্টার সলমন খান। সাহসিকতার এই দৃষ্টান্ত দেখে মুগ্ধ সলমন সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন বার্তা দিয়ে ওই বীর পাইলটের সঙ্গে বিমানে সফর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

Salman Khan: আপনার সঙ্গে উড়তে চাই! পাইলট স্মিতকে কী বার্তা দিলেন সলমন?

|

Oct 03, 2026 | 11:53 AM

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী বিমান ভেঙে ফেলার চক্রান্ত বানচাল করে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে রাতারাতি নায়ক হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। কো-পাইলটের প্রাণঘাতী ছুরিকাঘাত এবং রক্তাক্ত শরীরেও বিমানকে সুরক্ষিতভাবে অবতরণ করানোর সেই অবিশ্বাস্য বীরত্বকে এবার কুর্নিশ জানালেন বলিউড সুপারস্টার সলমন খান। সাহসিকতার এই দৃষ্টান্ত দেখে মুগ্ধ সলমন সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন বার্তা দিয়ে ওই বীর পাইলটের সঙ্গে বিমানে সফর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এক্সে পাইলট স্মিত মচ্ছারের ছবি শেয়ার করে সলমন খান লেখেন, “কামাল করে দিয়েছেন পাইলট জি! আমরা সবাই আপনাকে স্যালুট জানাই। আপনার সঙ্গে বিমানে উড়তে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয় হবে। ওয়েল ডান ব্রো… ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর।”

ঘটনাটির সূত্রপাত বুধবার। ‘ফ্লাইদুবাই’-এর ‘FZ1073’ নম্বর বিমানটি দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আবিবের দিকে রওনা দিয়েছিল। মাঝআকাশে বিমানটি যখন ৩৪,০০০ ফুট উঁচুতে উড়ছিল, ঠিক তখনই কো-পাইলট হঠাৎই বিমানটি ক্র্যাশ করানোর উদ্দেশে প্রধান পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। রক্তক্ষয়ী সেই আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়েও অবিশ্বাস্য উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন স্মিত। বিমানটি ১৭,০০০ ফুটেরও বেশি নিচে নেমে গেলেও মারাত্মক পরিস্থিতিতে জরুরি সংকেত পাঠান তিনি এবং বাধ্য হয়ে সৌদি আরবের তাবুক শহরের ‘প্রিন্স সুলতান বিন আবদেল আজিজ’ বিমানবন্দরে নিরাপদে সেটিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যান। বিমানে ২৭টি শিশুসহ মোট ১৭৪ জন যাত্রী উপস্থিত ছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটির গ্যালিতে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় রক্তভেজা শরীরে শুয়ে আছেন জখম ক্যাপ্টেন স্মিত। পরবর্তীতে শুক্রবার আবু ধাবির হাসপাতাল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একটি ভিডিও কলে কথা বলেন তিনি। প্রায় ১০ মিনিটের সেই ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, স্মিতের নাকে টিউব এবং মাথা ও হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা। সেই ভয়াল স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে চোখে জল চলে আসে ১৭ বছর ধরে বিমান চালানো এবং বিগত ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেনের দায়িত্বে থাকা এই জ্যেষ্ঠ পাইলটের।

স্মিত মোদীকে বলেন, “আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম বিমানটি হু হু করে নিচের দিকে ভেঙে পড়ছে… আমি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু নিজের মনকে শক্ত করে বলি, ককপিটের দরজাটা ঠিক সামনেই আছে, ওটা যেকোনও মূল্যে খুলতেই হবে। আমি শেষ শক্তি দিয়ে দরজাটা খুলতে সক্ষম হই এবং বাইরের লোকজন ভেতরে চলে আসেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “ভগবানই সেদিন আমাকে বাঁচিয়েছেন।” গুজরাটের বাসিন্দা স্মিত জানান, চরম বিপদের সেই মুহূর্তে তিনি মনে মনে হনুমান চালিসা পাঠ করছিলেন।

ভিডিও কলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, স্মিতের এই সাহসী পদক্ষেপে বহু মানুষের প্রাণ বেঁচেছে এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় পাইলটদের সুনাম ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us