
বহু ছবিতেই সলমন খান, পারফেক্ট প্রেমিক, পারফেক্ট ছেলে, পারফেক্ট হাজব্য়ান্ড। বহু সুপারহিট ছবিতেই তাঁর চরিত্রের নাম প্রেম। কিন্তু বার বার প্রেমে আঘাত খেয়ে, সলমন এখন যেন ফর এভার সিঙ্গল! বলিউডের সেই দাবাং হিরোই এবার খোলাখুলি বলা ভাল, প্রথমবার একাকীত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে মনের কথা খোলসা করলেন। কী লিখলেন বলিউড ভাইজান?
বলিউড সুপারস্টার সলমন খানের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সব সময়ই অনুরাগীদের জন্য এক বাড়তি বিনোদন দেয়। তা প্রীতি জিন্টার আইপিএল দলকে উৎসাহ দেওয়াই হোক বা জীবন নিয়ে নিজের মনের কথা শেয়ার করা— নেটপাড়ায় সলমন বরাবরই বিন্দাস ও অকপট।
তবে গত রবিবার সন্ধ্যায় সলমন এমন একটি পোস্ট করলেন, যা ভক্তদের মনে কিছুটা চিন্তার উদ্রেক করেছে। নিজের সিক্স-প্যাক অ্যাবস দেখিয়ে একটি শার্টলেস ছবি পোস্ট করলেও, তার ক্যাপশনে ফুটে উঠেছে ‘একা থাকা’ এবং ‘একাকীত্ব’-এর এক অদ্ভুত আক্ষেপ।
সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ওই ছবিতে সলমনকে একটি আবছা আলোর ঘরে সোফায় শুয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তবে ছবির চেয়েও বেশি চর্চা হচ্ছে তার রহস্যময় ক্যাপশনটি নিয়ে। সলমন লিখেছেন, “বাই আই মি মাইসেলফ, নিজের সঙ্গে থাকার দুটি উপায়— অ্যালোন এবং লোনলি। একা থাকাটা নিজের ইচ্ছে, আর একাকীত্ব হল যখন কেউ তোমার সঙ্গে থাকতে চায় না… এবার এর চেয়ে বেশি তোমরা নিজেরাই বুঝে নাও তোমাদের কী করা উচিত।” প্রিয় তারকার মুখে একাকীত্বের এমন বার্তা দেখে স্বভাবতই কিছুটা উদ্বিগ্ন তার কোটি কোটি ভক্ত।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সলমন জানিয়েছেন, অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমা নির্মাণের নেপথ্যেও সলমন সমানভাবে সক্রিয়। একাধিক চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য লেখার প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি যুক্ত থেকেছেন। তবে সম্প্রতি ‘ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ‘ভাইজান’ এক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ছবি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি কখনওই নিজে চিত্রনাট্য পড়েন না।
নিজের এই অভ্যাসের ব্যাখ্যা দিয়ে সলমন বলেন, “আমি আমার পুরো জীবনে কখনও কোনও স্ক্রিপ্ট বা চিত্রনাট্য নিজে পড়িনি। আমি স্ক্রিপ্ট লিখেছি, কিন্তু কখনও পড়িনি। আমি সবসময় চিত্রনাট্য শুনি। কারণ নিজে পড়তে গেলে আমার একটা সমস্যা হয়; আমি যখন তৃতীয় লাইনে থাকি, আমার মন তখন পঞ্চম লাইনে চলে যায়। ওই তিন লাইনের একটা ফারাক তৈরি হয়ে যায় এবং আমি আগে-পিছে করতে থাকি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “তাই আমি লেখক বা পরিচালকের মুখ থেকে সরাসরি চিত্রনাট্য শুনতে পছন্দ করি। এতে আমি বুঝতে পারি যে গল্পটা কোন দিকে যাচ্ছে, তিনি ঠিক কী ধরনের সিনেমা বানাতে চাইছেন এবং তার আসল ভাবনাটা কী। তা না হলে নিজে পড়তে গেলে আমি আমার মতো করে সিনেমাটির কথা ভাবতে শুরু করি, যা হয়তো পরিচালক বা লেখকের ভাবনার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়।”