
বিজয়া দশমী ও দশেরা উপলক্ষে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত হল এক জাঁকজমকপূর্ণ রাবণ দহন অনুষ্ঠান। সল্টলেক সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যাগে আয়োজিত এই বিশেষ উৎসবে মূল আকর্ষণ ছিলেন বলিউড তারকা রণবীর কাপুর। পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির আসন্ন মেগাবাজেট ছবি ‘রামায়ণ’-এ শ্রীরামের চরিত্রে অভিনয় করছেন রণবীর। সেই সূত্র ধরেই এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবে তাঁর সশরীরে উপস্থিতি ছিল রামায়ণ ছবির টিম। উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণী তারকা যশ, যাঁকে এই ছবিতে দেখা গিয়েছে রাবণের চরিত্রে। হাজির ছিলেন পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি এবং প্রযোজক নমিত মালহোত্রা। এদিন একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
চলতি বছর সল্টলেক সাংস্কৃতিক সংসদের মূল ভাবনা বা থিম রাখা হয়েছিল ‘রামের অযোধ্যা’। বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় সেন্ট্রাল পার্কের সুবিশাল মাঠে স্থাপিত শ্রীরামের বিশাল প্রতিমার সামনে অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে ধুমধাম করে পালন করা হয় রাবণ দহন। প্যান্ডেলজুড়ে উপস্থিত হাজার হাজার সাধারণ মানুষের উল্লাস আর করতালির মাঝে পোড়ানো হয় রাবণের প্রকাণ্ড কুশপুতুল।
নীতিশ তিওয়ারির বহুপ্রতীক্ষিত ‘রামায়ণ’ ছবিতে রাবণের ভূমিকায় অভিনয় করছেন দক্ষিণী মেগাস্টার যশ এবং লক্ষ্মণের চরিত্রে দেখা যাবে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেতা রবি দুবেকে। তবে সল্টলেকের রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় রণবীর কাপুরের উপস্থিতি ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আয়োজকদের প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়ে বলেন, “জয় শ্রীরাম! সল্টলেক সাংস্কৃতিক সংসদ প্রতি বছর অত্যন্ত চমৎকার ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই আয়োজন করে। এ বছরও ধর্মীয় আস্থা ও ঐতিহ্যের বার্তা বহন করছে এই অনুষ্ঠান।”
বক্তব্যের শেষে মুখ্যমন্ত্রী রণবীর কাপুর সহ অন্যান্য তারকাদের উদ্দেশ্যে বলেন, তিলোত্তমার এই সাংস্কৃতিক আবহ তাঁরা যেন উপভোগ করেন এবং আগামীতেও বারবার বাংলায় ফিরে আসেন। শ্রীরামের ভক্তি আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে সেন্ট্রাল পার্কের এই বিজয়া ও দশেরা উদ্যাপন বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের নবমীর রাতকে যেন আরও আলোকিত করে তুলেছিল।