
পর্দায় তাঁর অভিনয়ের জাদুতে মুগ্ধ কোটি কোটি অনুরাগী। কিন্তু রূপোলি পর্দার বাইরে মানুষ শাহরুখ খান যে কতটা সংবেদনশীল এবং তীব্র পশুপ্রেমী, সেই খবর হয়তো অনেকেরই অজানা। বিশেষ করে পোষ্যদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা আর আবেগ যে কোনও সাধারণ মানুষের চেয়ে কম নয়, তা প্রমাণ করে অতীতের একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। প্রিয় পোষ্যের শেষযাত্রাতেও তাঁকে কাছ ছাড়া করতে চাননি বলিউডের ‘বাদশা’।
ঘটনাটি বেশ কয়েক বছর আগের। গৌরী খানের মামা একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারে এই অজানা কাহিনি প্রকাশ্যে এনেছিলেন। তিনি জানান, এক সময় গৌরীকে একটি ছোট্ট কুকুরছানা উপহার দিয়েছিলেন তিনি। অল্প দিনেই সেই সারমেয়টি শাহরুখের অত্যন্ত আদরের হয়ে ওঠে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, একবার শাহরুখ যখন শুটিংয়ের জন্য শহরের বাইরে ছিলেন, তখনই পোষ্যটি মারা যায়। বাড়ির পরিচারকেরা নিয়মমাফিক সেটির দেহ কাপড়ে মুড়ে সমুদ্রসৈকতের ধারে কবর দিয়ে আসেন।
আসল নাটকের শুরু হয় সে দিন গভীর রাতে। শুটিং শেষ করে রাত আড়াইটে নাগাদ বাড়ি ফেরেন শাহরুখ। এসেই যখন শোনেন তাঁর আদরের পোষ্য আর ইহজগতে নেই, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেতা। কিন্তু শুধু শোক প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হননি তিনি। গভীর রাতেই বাড়ির ঘুমন্ত কর্মীদের ডেকে তোলেন এবং ঠিক কোন জায়গায় কুকুরটিকে সমাহিত করা হয়েছে, তা দেখাতে বলেন।
সমুদ্রের পাড়ে পৌঁছে আবেগঘন শাহরুখ নিজের হাতেই মাটি খুঁড়ে পোষ্যের নিথর দেহটি বের করে আনেন। এরপর সযত্নে সেটি বাড়ি ফিরিয়ে এনে নিজের বাংলোর পিছনের বাগানে নতুন করে কবর দেন। অশ্রুসজল চোখে বাড়ির কর্মীদের কিছুটা কড়া সুরেই ‘কিং খান’ বলেছিলেন, “আমার পোষ্যকে এভাবে পর করে দিলে কী করে? সে বেঁচে থাকুক বা না থাকুক, সে তো আমাদেরই পরিবারের অংশ। আমাদের সঙ্গেই থাকবে।”
এই ঘটনাটিই প্রমাণ করে দেয় যে, পোষ্যদের স্রেফ শখের বস্তু নয়, বরং নিজের সন্তানের মতোই আগলে রাখেন শাহরুখ। শাহরুখ-গৌরী দম্পতির ঘরে বরাবরই চারপেয়ে সদস্যদের আনাগোনা লেগে থাকে।
পেশাগত জীবনের কথা বললে, ২০২৩ সালে ব্যাক-টু-ব্যাক তিনটি ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দেওয়ার পর, শাহরুখ আপাতত তাঁর আগামী ছবি ‘কিং’ (King)-এর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। প্রায় তিন বছরের বিরতি কাটিয়ে ফের বড় পর্দায় ধামাকা করার জন্য কোমর বাঁধছেন বলিউড বাদশা।