
শাহরুখ খানের আগামী ছবি ‘কিং’-এর সেট থেকে একের পর এক তথ্য ফাঁসের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছেন নির্মাতারা। সম্প্রতি মুম্বইয়ে চলমান শুটিং শিডিউলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে একটি এআই-জেনারেটেড ফ্যান-এডিট ভিডিও, যা ইন্টারনেটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর হুলস্থুল পড়ে যায়। পাপারাৎজিদের তোলা ক্লিপ, লিক হওয়া ছবি এবং দৃশ্য জুড়ে তৈরি এই ভিডিওটি ভাইরালের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছবির টিম। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই ছবিটির ক্লাইম্যাক্স শুটিংয়ের বেশ কিছু দৃশ্য ইন্টারনেটে ফাঁস হয়েছিল।
প্রায় ১৫ মিনিটের ওই ফ্যান-মেড ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছিল যে, এটি মুক্তির আগেই পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের এই সিনেমার একটি ‘মিনি সংস্করণ’ বা সংক্ষিপ্ত রূপ। তবে ভেতরের খবর, ভিডিওটি নজরে আসতেই ছবির অনুরাগী এবং প্রযোজনা সংস্থা সম্মিলিতভাবে সেটির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করে। ফলস্বরূপ, একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে ভিডিওটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রযোজনা সংস্থার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ছবিটির দৃশ্য ফাঁসের ঘটনায় টিম আগে থেকেই বেশ বিরক্ত ছিল। সূত্রের দাবি, “ক্লাইম্যাক্সের দৃশ্যগুলো লিক হওয়ার পর থেকেই পুরো টিম ক্ষুব্ধ ছিল। তারও আগে কেপটাউন শিডিউলে শাহরুখ ও দীপিকার একটি গানের দৃশ্য ভাইরাল হয়েছিল। সেখানকার লাইন প্রোডাকশন টিম অত্যন্ত সতর্ক থাকা সত্ত্বেও, শাহরুখের মতো তারকা যখন প্রকাশ্য স্থানে শুটিং করেন, তখন লিক হওয়া উৎসের সন্ধান পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিন্তু এই এআই এডিটটি সমস্ত সীমা অতিক্রম করে গিয়েছে, কারণ এটি সিনেমার মূল গল্পটিকেই পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করেছে।”
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু ফুটেজ ছড়ানোর বিষয়টিই নির্মাতাদের ভাবাচ্ছে না, বরং যেভাবে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা উপাদানগুলোকে এক সুতোয় বেঁধে ছবির সম্ভাব্য গল্প ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে, তা-ই মূলত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এই ঘটনার পর মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠে ঘোডবন্দর রোডের কাছাকাছি চলমান শুটিং সেটে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই লোকেশনটি অত্যন্ত ব্যস্ত এবং জনবহুল এলাকা হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা বজায় রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং।
তথ্য অনুযায়ী, “মুম্বইয়ের এই সেটটি একটি ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত, তাই এখানে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও খুব একটা লাভ হবে না। তবে অ্যাকশন দৃশ্য এবং সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর শুটিংয়ের সময় সাধারণের যাতায়াত ও নজরদারি এখন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।”