
শ্রেয়া ঘোষাল (Shreya Ghoshal) কি তবে ডিজিটাল যুগের এই ইঁদুরদৌড়ে ক্লান্ত? পাঁচবার জাতীয় পুরস্কার জয়ী এই গায়িকার গলায় এবার শোনা গেল এক অদ্ভুত আক্ষেপের সুর। আজ যখন গানের মান বিচার হয় ইউটিউব ভিউ বা ইনস্টাগ্রাম রিলসের ভিউয়ের সংখ্যা দিয়ে, তখন কি সুরের সেই মায়া কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে? স্ট্রিমিং ডেটা আর লাইক-ফলোয়ারের এই গোলকধাঁধায় পড়ে বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীরা কি নিজেদের আসল ‘সাধনা’ থেকে বিচ্যুত হচ্ছেন? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই কঠিন বাস্তব নিয়েই মনের দরজা খুলে দিলেন ভারতের মেলোডি কুইন।
সোশাল মিডিয়া ভিউয়ের চাপে কি শিল্পের ক্ষতি হচ্ছে?
শ্রেয়ার মতে, বর্তমান যুগে একজন শিল্পীর মনসংযোগ ধরে রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “যখন চারদিকে শুধু অ্যালগরিদম, ফলোয়ার আর স্ট্রিমিং সংখ্যার চাপ থাকে, তখন নিজের কাজে মন দেওয়া, সুরের গভীরে ঢোকা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।” গায়িকা নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন কারণ তিনি যখন গান শুরু করেছিলেন, তখন এই ধরনের কৃত্রিম ইঁদুরদৌড় ছিল না। তখন গানের সঙ্গে মানুষের সংযোগ তৈরি হত নিখাদ ভালোবাসার টানে, কোনও যান্ত্রিক হিসেব-নিকেশে নয়।
কঠিন সময়ের কথা বললেও বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের ছোট করেননি শ্রেয়া। বরং তিনি মনে করেন, আজকের দিনে টিকে থাকা অনেক বেশি কষ্টের। গান গাওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের সঙ্গে নিয়মিত তাল মিলিয়ে চলা সহজ নয়। তিনি বলেন, “নতুনদের আমি কুর্নিশ জানাই। এত সব কিছুর মাঝেও যারা ভালো গান তৈরি করে দর্শকদের মন জয় করছে, তাদের লড়াইটা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
সেই সাক্ষাৎকারে শিল্পী বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, আবেগহীন শিল্পের কোনও দাম নেই। তাঁর মতে, গান শুধু একটা শব্দ বা ছন্দ নয়, তাতে প্রাণ থাকা চাই। শ্রেয়া আজও মনে করেন তিনি এখনও প্রতি মুহূর্তে শিখছেন। তাঁর সমসাময়িক বা জুনিয়রদের কাছ থেকেও তিনি প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেন। শিল্পী হিসেবে শেখার এই খিদে আর হৃদয়ের আবেগই তাঁকে এতদিন দর্শকদের মনে সিংহাসন দিয়ে রেখেছে।
বর্তমান সময়ের চটকদার প্রচারের ভিড়ে শ্রেয়া ঘোষালের এই বার্তা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। প্রযুক্তি গান শোনার মাধ্যম বদলে দিতে পারে, কিন্তু গানের আসল জাদুটুকু যে সেই আবেগ আর সুরেই লুকিয়ে থাকে—সেটাই যেন আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন তিনি।