
২০২২ সালে ধুমধাম করে সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন। গোয়ার সমুদ্রসৈকতে বসেছিল চাঁদের হাট। কিন্তু বিয়ের মাত্র চার বছরের মাথাতেই কি তবে মোহভঙ্গ? বলিপাড়ার অন্দরে কান পাতলে এখন একটাই গুঞ্জন— অভিনেত্রী মৌনী রায় এবং দুবাইয়ের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার সুরজ নাম্বিয়ারের বিচ্ছেদ এখন সময়ের অপেক্ষা।
বেশ কিছুদিন ধরেই মৌনী ও সুরজের সম্পর্ক নিয়ে চর্চা চলছিল। সম্প্রতি দেখা যায়, তাঁরা দুজনেই ইনস্টাগ্রামে একে অপরকে ‘আনফলো’ করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের বিয়ের স্মৃতি বিজড়িত ছবিগুলোও সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এরপরই রটে যায়, মৌনী ও সুরজ আর একসঙ্গে থাকছেন না। এমনকি ওই রিপোর্টে সুরজের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে বলা হয়েছে, নাম এবং প্রতিপত্তির জন্য তিনি মৌনীকে ব্যবহার করেছেন এবং অভিনেত্রীর টাকাও খরচ করেছেন।
অভিজ্ঞ সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানি নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই বিচ্ছেদের নেপথ্যে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সুরজ ভারতের মাটিতে এসে নিজেকে ব্রাত্য মনে করতেন। তাঁর সূত্র অনুযায়ী, সুরজ দুবাইতে অত্যন্ত ধনী এবং প্রতিষ্ঠিত হলেও মুম্বইয়ে পা রাখলেই সব বদলে যেত। অভিনেত্রী হিসেবে মৌনী যখন সর্বত্র সমাদৃত হতেন, সুরজকে তখন কেউ চিনত না। সাংবাদিকের দাবি, সুরজের এই মানসিক অবস্থা অনেকটা ১৯৭৩ সালের ঋষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের ধ্রুপদী সিনেমা ‘অভিমান’-এর অমিতাভ বচ্চনের চরিত্রের মতো,যেখানে জয়া ভাদুড়ীর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কাছে অমিতাভ নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন।
বিচ্ছেদ নিয়ে যখন সর্বত্র তোলপাড়,তখন বুধবার মৌনী রায় নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি পোস্ট করেছেন। বিচ্ছেদের বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করলেও, তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে গোপনীয়তা রক্ষা করার আবেদন জানিয়েছেন। মৌনী লিখেছেন, “সব সংবাদমাধ্যমের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, দয়া করে কোনও মিথ্যে রটনা বা গল্প ছড়াবেন না। আমাদের কিছুটা সময় এবং ব্যক্তিগত পরিসর দিন। দয়া করে।”
এখনও পর্যন্ত সুরজ নাম্বিয়ারের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি। বাস্তবের এই ‘অভিমান’ কি মিটে যাবে, নাকি দুই তারকার পথ আলাদা হয়ে যাবে চিরতরে— সেদিকেই তাকিয়ে অনুরাগী মহল।