
ঋষি কাপুর মানেই একরাশ নস্টালজিয়া আর রূপালি পর্দার চিরসবুজ রোমান্স। সেই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে যাতে কেউ কোনও অনৈতিক বাণিজ্যিক ফায়দা তুলতে না পারে, এবার তা নিশ্চিত করল কাপুর পরিবার। সম্প্রতি একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রয়াত এই মেগাস্টারের নামের ওপর কপিরাইট বা আইনি অধিকার অর্জন করেছে তাঁর পরিবার। এর ফলে এখন থেকে যেকোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক বা জনসমক্ষে ‘ঋষি কাপুর’ নামটি ব্যবহার করতে হলে পরিবারের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছে, “এই কপিরাইট অনুযায়ী, যে কেউ ঋষি কাপুরের নাম ব্যবহার করতে চাইলে বা কোনও পেশাদার কাজে তাঁর নাম উল্লেখ করতে চাইলে আগে পরিবারের থেকে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।” মূলত প্রয়াত অভিনেতার মৃত্যুর পর তাঁর নাম ও ইমেজ যাতে কোনওভাবে অপব্যবহৃত না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই রক্ষাকবচ তৈরি করা হয়েছে।
হিন্দি সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম সফল নায়ক ঋষি কাপুর দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল প্রয়াত হন। প্রায় পাঁচ দশকের কেরিয়ারে ‘ববি’ থেকে শুরু করে ‘অগ্নিপথ’, ‘কাপুর অ্যান্ড সন্স’ বা ‘মুল্ক’-এর মতো দেড়শোর বেশি ছবিতে তাঁর সাবলীল অভিনয় আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে। চকোলেট বয় থেকে শুরু করে তুখোড় খলনায়ক— সব চরিত্রেই তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
ইদানীংকালে দেখা গিয়েছে, বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের নাম, ছবি বা গলার স্বর ব্যবহার করে তাঁদের অনুমতি ছাড়াই নানা পণ্য বা ব্র্যান্ড প্রচার চালানো হয়। ঋষি কাপুরের পরিচিতি নিয়ে যাতে কেউ বিনা অনুমতিতে কোনও মার্চেন্ডাইজ, ব্র্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন বা প্রজেক্ট তৈরি করে মুনাফা লুটতে না পারে, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক স্তরে এই ধরণের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা বাড়লেও ভারতে কাপুর পরিবারের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে ঋষি কাপুরের নাম জড়িয়ে কোনও বাণিজ্যিক কাজ করতে গেলে এখন থেকে রণবীর কাপুর বা নীতু কাপুরের অনুমতি লাগবেই। পর্দার ‘চিন্টু জি’ সশরীরে না থাকলেও তাঁর নামের গরিমা যাতে অমলিন থাকে, সেই দায়িত্বই এখন কাঁধে তুলে নিলেন তাঁর উত্তরসূরিরা।