
মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের দিন উপস্থিত থাকলেও কখনও সরাসরি রাজনীতির মঞ্চে দেখা যায়নি তাঁকে। টলিউডের ‘বস’ জিৎ বরাবরই নিজেকে রাজনৈতিক রঙ থেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের দিন দেখা গেল অন্য ছবি। সকালে ব্রিগেডের জনসভায় অভিনেতা জিতের উপস্থিতি ঘিরে এখন টলিউড থেকে রাজনৈতিক মহল- সর্বত্রই চর্চা তুঙ্গে।
পশ্চিমবঙ্গের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার এবং রাজ্যের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা প্রকাশ করে একটি বার্তা সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা। সেখানে তিনি লিখেছেন, এই জয় কেবল রাজনৈতিক জয় নয়, বরং মানুষের প্রতি এক বড় অঙ্গীকার। বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং শিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই যেন তাঁর এই বার্তায় সুর মেলালেন অভিনেতা। প্রধানমন্ত্রীর ‘মোদী গ্যারান্টি’-র ওপর সাধারণ মানুষের যে অগাধ বিশ্বাস রয়েছে, সেই প্রসঙ্গেরও উল্লেখ রয়েছে জিতের এই পোস্টে।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলার গৌরব ম্লান হয়েছে বলে মনে করেন অভিনেতা, তা নিয়ে নিজের যন্ত্রণার কথা গোপন রাখেননি জিৎ। তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গ মেধা ও পরিশ্রমের ভূমি। সেই ভূমিকে পুনরায় ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে দেখার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। রাজনীতির আঙিনায় পা না রাখা এই তারকার এমন পোস্ট এবং ব্রিগেডে হাজিরা কি তবে নতুন কোনও সমীকরণের ইঙ্গিত? জিতের এই পদক্ষেপ টলিউডের অন্দরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগদানের ঘোষণা না করলেও, তাঁর পোস্টের শেষে ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান এবং ব্রিগেডের উপস্থিতি অনেক না বলা কথার জানান দিচ্ছে। জিতের মতো মহাতারকা যখন রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় হওয়ার আভাস দেন, তখন তা যে নিছক কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, রুপোলি পর্দার ‘বস’ বাস্তব জীবনের রাজনীতির পিচে কতটা বড় ইনিংস খেলেন। জল্পনাই কী সত্যি হতে চলেছে? সেই উত্তর সময় বলবে।