
বড় দিদি লতা মঙ্গেশকর ও মেজ দিদি আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ঊষা মঙ্গেশকর। দুই অগ্রজাকে হারিয়ে তাঁর দৈনন্দিন জীবনে যে এক গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সে কথাই উঠে এল তাঁর কণ্ঠে। সম্প্রতি মুম্বইয়ে আয়োজিত ১৮তম ‘নিউজমেকার্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর অবসরে সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের একাকীত্ব ও বিষণ্ণতার কথা প্রকাশ করেন তিনি।
গত আট বছরের ব্যবধানে দুই দিদিকেই হারিয়েছেন ঊষা। আশা ভোঁসলের প্রয়াণকে পরিবার ও ভক্তদের জন্য এক ‘বিরাট ধাক্কা’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “আমার বড় দিদি চলে গিয়েছেন। গত আট বছরে আমি আমার দুই বড় দিদিকেই হারালাম। এটা আমার কাছে যেমন বড় ধাক্কা, তেমনই সারা দেশের কাছেও এক অপূরণীয় ক্ষতি, কারণ দেশ এক মহান শিল্পীকে হারাল।”
আশা ভোঁসলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ঊষা। তিনি বলেন, “অনেক স্মৃতি ভিড় করে আসছে। ছোটবেলা থেকেই আমরা একসঙ্গে ছিলাম। এখন বাড়িতে থাকলে বড্ড একা লাগে, মন খারাপ ঘিরে ধরে।” শোকের আবহেও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঘরে বসে কেবল দুঃখবিলাস করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল। মানসিক অবস্থার পরিবর্তনের জন্যই তিনি বাইরে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা ভোঁসলে। হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে ১১ এপ্রিল তাঁকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অন্যদিকে, সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হন। করোনা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তাঁর জীবনাবসান হয়েছিল। ২০০১ সালে ‘ভারত রত্ন’ সম্মানে ভূষিত হওয়া ছাড়াও দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি।