
বলিউড তথা ভারতীয় বিনোদন জগতে নেমে এল আরও এক গভীর শোকের ছায়া। গত বৃহস্পতিবার না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। সেই শোক কাটতে না কাটতেই এল আরও এক মর্মান্তিক দুঃসংবাদ। ‘ক্রান্তিবীর’ অভিনেতার মৃত্যুর ঠিক চারদিনের মাথাতেই চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন পর্দায় তাঁর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করা প্রবীণ অভিনেত্রী মধু কাম্বিকর। গুরু-শিষ্য বা পর্দার মা-ছেলের এমন অদ্ভুত ও মর্মান্তিক প্রয়াণের সমাপতন দেখে স্তম্ভিত গোটা মায়ানগরী।
বলিউড সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন নানা পাটেকর। আর তার ঠিক চারদিন পর, অর্থাৎ সোমবার পুণেতে নিজের বাসভবনেই মারা যান বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মধু কাম্বিকর। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। স্ট্রোক হওয়ার পর থেকেই তাঁর স্বাস্থ্য ক্রমশ ভেঙে পড়েছিল, যার সঙ্গে আর লড়ে উঠতে পারেননি এই গুণী শিল্পী।
মারাঠি সিনেজগতে এক অত্যন্ত পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম মধু কাম্বিকর। মারাঠি সিনেমা, থিয়েটার এবং লোকশিল্পের জগতে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী ‘লাবণী’ নৃত্যশৈলীকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। ‘হেচ মাঝা মাহের’, ‘জাপটলেলা’, ‘দেবু’ এবং ‘ইয়েউ কা ঘারাত’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় মারাঠি ছবিতে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি।
বলিউডের জনপ্রিয় বেশ কিছু ছবিতেও কাজ করেছেন মধু কাম্বিকর। ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হাম দোনো’ এবং ১৯৯৭ সালের ‘যশবন্ত’ ছবিতে নানা পাটেকরের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন তিনি। অথচ একটি মজার ও অবাক করা তথ্য হল, বাস্তবে নানা পাটেকরের থেকে বয়সের দিক থেকে দু’বছরের ছোট ছিলেন মধু কাম্বিকর! তা সত্ত্বেও পর্দায় নানা পাটেকরের মতো শক্তিশালী অভিনেতার মায়ের চরিত্রে তিনি এমন এক সাবলীল ও জীবন্ত অভিনয় ফুটিয়ে তুলেছিলেন, যা আজও সিনেপ্রেমীদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
নানা পাটেকরের প্রয়াণের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই তাঁর পর্দার মায়ের এমন আকস্মিক প্রয়াণে মারাঠি ও হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে শোকের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হয়েছে। একের পর এক প্রবীণ ও প্রতিভাবান শিল্পীর চলে যাওয়ায় বিনোদন জগতের এক সোনালি অধ্যায়ের যেন অবসান ঘটছে।