
১০-১২ বছর আগেকার কথা। কিংবা আরও আগের কথা হবে। নাইন্টিজ়ের ছেলেমেয়েরা তখন স্কুলে পড়ে। সবে বয়ঃসন্ধি ছুঁয়েছে তাদের। এমন সময় সিরিয়ালের পর্দায় আবির্ভূত হল এক জুটি। অবাঙালি নায়ক ঋষি কৌশিক এবং বাঙালি নায়িকা অপরাজিতা ঘোষ দাস। ‘একদিন-প্রতিদিন’, ‘এখানে আকাশ নীল’-এর মতো ধারাবাহিকে জুটি হিসেবে অভিনয় করতে দেখা যায় ঋষি-অপরাজিতাকে। তাঁদের রসায়ন এত গ্রহণযোগ্য ছিল যে, তাঁদের নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন রটেছিল সেই সময়। অনেকে মনে করেন, অপরাজিতার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ঋষির।
বিষয়টা ঠিক কি ছিল, তা ঋষি নিজের মুখে জানিয়েছিলেন এক সাক্ষাৎকারে। ঋষিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, অপরাজিতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন কি সত্যি ছিল? নাকি পুরোটাই ছিল রটনা? এ ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে প্রথমে রসিকতা করেছিলেন ঋষি। বলেছিলেন, “এই তো বলেই দেওয়া হচ্ছে গুঞ্জন।”
কিন্তু যাক রটে তার কিছু তো বটে–এই প্রবাদও রয়েছে। ফলে ঋষিকে জবাব দিতেই হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, “আমি এবং অপরাজিতা খুবই গ্রহণযোগ্য জুটি ছিলাম একটা সময়। তিনি ছিলেন আমার সবচেয়ে প্রিয় সহ-অভিনেত্রী। আমাদের পর্দার রসায়ন এতটাই বিশ্বাসযোগ্য ছিল যে, ব্যক্ত জীবনেও অনেকে মনে করেছিলেন অপরাজিতা আমার প্রেমিকা কিংবা স্ত্রী।”
জেলার গ্রামে-শহরে শো করতে যেতেন ঋষি। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হত ‘অপরাজিতা বউদি’র কথা। ঋষি বুঝতেন গ্রামের সহজ সরল মনের মানুষগুলো ভাবতে শুরু করেছেন বাস্তব জীবনেও অপরাজিতা এবং তিনি বিবাহিত। বিষয়টাকে তারিয়ে-তারিয়ে উপভোগ করেছিলেন ঋষি। সেটিকে তিনি সাফল্য মনে করতেন। পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য অভিনয়ের কারণেই সকলে মনে করছেন তাঁরা বাস্তব জীবনেও স্বামী-স্ত্রী।
অসমের ছেলে ঋষি। কলকাতায় এসেছিলেন অভিনয় করতে। বাংলা বলতে পারতেন না শুরুর দিকে। কিন্তু সেই প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে একের পর এক বাংলা ভাষার সিরিয়ালে অভিনয় করে দর্শকের মনে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। কেবল এপার বাংলায় নয়, ওপার বাংলার বেশ কিছু নাটকেও দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ঋষি। সেখানে গিয়েও বাংলাদেশের বিশেষ বাংলা ভাষাকে রপ্ত করেছেন অল্প সময়ের মধ্যে। বাইকপ্রেমী, অ্যাডভেঞ্চার লাভার অভিনেতা মনের দিক থেকে বেশ মজার মানুষ। জীবনকে পুরো দামে উপভোগ করতে ভীষণ ভালবাসেন ঋষি কৌশিক।